মাথাপিছু আয় 

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১০:৩৬ পিএম, ২৩ মে ২০২১

বিশ্ব ধুঁকছে করোনার প্রভাবে। ভেঙে পড়েছে অনেক দেশের অর্থনীতি। কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেকক্ষেত্রেই মানুষ। বাড়ছে বেকারত্বের সংখ্যাও। এর মাঝেই এসেছে একটি আশা জাগানিয়া খবর। করোনাকালেও বেড়েছে আমাদের মাথাপিছু আয়। সম্প্রতি মন্ত্রিসভার বৈঠকে পরিকল্পনামন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা বছরে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। মাথা পিছু আয় বাড়ার বার্ষিক তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, আাদের শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষ প্রতি মাসে আয় করে ১৫ হাজার ৭৩৯ টাকা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গত বছরের তথ্যানুযায়ী, এত দিন আমাদের মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৬৪ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৬৩ ডলার, আগের বার থেকে যা ৯ শতাংশ বেশি। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি বেড়েছে জিডিপির পরিমাণও। বর্তমানে এ সংখ্যাটা ৩০ লাখ ৮৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আগে যা ছিল ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের শেষ ত্রৈমাসিকের শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের থাবায় বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। 

এর ঢেউ এসে পড়ে বাংলাদেশেও। ফলে টানা ৬৬ দিন সাধারণ ছুটির আওতায় এক ধরনের লকডাউন ছিল। গত সেপ্টেম্বর থেকে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড স্বাভাবিক হতে থাকে। কিন্তু পুরো স্বাভাবিক হওয়ার আগেই গত এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে। এ কারণে ৫ এপ্রিল থেকে সীমিত আকারে বিধি-নিষেধ চলছে। এতে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে কৃষির বাম্পার ফলন, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা ধরে রাখার কারণে পণ্যের উৎপাদন বেড়েছে। বেড়েছে সেবা খাতের প্রসার। এসব মিলে মাথাপিছু আয় বেড়েছে। গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছিল যে, মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি মোট দেশজ উৎপাদনের পরিমাণও (জিডিপি) দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ৮৭ হাজার ৩শ’ কোটি টাকা, যা আগে ছিল ২৭ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাংলাদেশে এই অভূতপূর্ব অর্জনের প্রধান কৃতিত্বের দাবিদার অবশ্যই বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সেইসঙ্গে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি সুসমভাবে হচ্ছে কিনা সেদিকটির প্রতিও নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, ধনী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে আমরা বিশ্বে অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েলথ এক্স ইনস্টিটিউট নামের এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের একটি গবেষণা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিশ্বে ধনী তৈরিতে এগিয়ে থাকা দশটি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।  সংস্থাটির মতে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতি ধনী বেড়েছে বার্ষিক ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ হারে। যাদের মোট সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৫০ কোটি টাকা, তাদেরকেই এখানে অতি ধনী হিসেবে চিহ্নিত করছে সংস্থাটি। তবে একথা স্বীকার করতেই হবে, করোনার মহামারীর কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের আয় বৈষম্যও বেড়েছে। এ সময়ে নি¤œ আয়ের মানুষের অনেকেরই মাথাপিছু আয় কমেছে আবার কিছু মানুষ নতুন করে ধনী হয়েছে। বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ায় খাদ্যের মজুদও সন্তোষজনক।

 সরকার পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, পায়রা বন্দর ও বিদ্যুত কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেলসহ মেগা প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগও আসছে। সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। দেশে প্রবাসী আয় তথা রেমিটেন্স ও রিজার্ভের ব্যাপক স্ফীতি তীব্র আশার সঞ্চার হয়েছে। রিজার্ভ অতিক্রম করেছে ৪৬ বিলিয়ন ডলার। তৈরি পোশাকের ৮০ শতাংশ ক্রয়াদেশ ফিরেছে। নতুন কার্যাদেশও আসছে তুরস্ক ও জাপান থেকে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে মন্দাবস্থা মোকাবেলা করে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব না। মাথাপিছু আয় বাড়ার খবরটি নিঃসন্দেহে ভালো খবর। সরকারকে আয়ের বৈষম্যের ব্যাপারটিও লক্ষ্য রাখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে সুষম সামাজিক উন্নয়ন। অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার সাথে সাথে বাংলাদেশ একটি সামাজিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে পরিণত হোক, এটাই আমাদের কামনা।