অগ্নি-নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিতে হবে 

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১২:৩৬ এএম, ২৩ মে ২০২১

অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টির গুরুত্ব অধিকাংশ সময়েই অবহেলিত। যখন কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটে, তখন আাদের টনক নড়ে। স্বাভাবিক সময়ে আমরা অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি অনুধাবন করলেও, অসতর্কতায় অনেক সময়েই বিষটির প্রতি যথাযথ নজর দেই না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কভিড ইউনিটের আইসিইউতে লাগা আগুন অগ্নি নিরাপত্তা এবং অগ্নি নির্বাচক ব্যবস্থার গুরুত্বকে আবার সামনে নিয়ে এলো। এর আগেও, মাত্র কয়েক মাস আগে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কোভিড রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এবারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটের আইসিইউতে লাগা আগুনে পুড়ে মারা গেলেন চারজন রোগী। শুধু রাজধানীই নয়, দেশের প্রায় শহরেই অগ্নি-নিরাপত্তার প্রশ্নটি অবহেলিত। হাসপাতালে আগুনে পুড়ে রোগীর মৃত্যু এবার আরও স্পষ্ট করে দিল, এক্ষেত্রে আমাদের পিছিয়ে থাকার দিকটি। আমাদের সমস্যা হলো, আমার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার গুরুত্ব যথাযথভাবে হয়তো উপলব্ধি করছি না।

 প্রতিবার রাজধানীসহ দেশের নানাস্থানে বড় দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের টনক নড়ে। আমরা নড়ে চড়ে বসি। নানান পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সে সবের যথাযথ বাস্তবায়ন হয় কিনা, তার খোঁজ নেওয়া হয় না। কারণ গুরুত্ব অনুযায়ী তদবির হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নি দুর্ঘটনার পর, একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ও পুরাতন ভবনের গড়ে ৮০ ভাগ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেড় থেকে দুই মাস আগেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। যেগুলোর মেয়াদ আছে সেগুলোও চলতি বছরের মাঝামাঝি ও শেষের দিকে শেষ হয়ে যাবে। এমনকি মেয়াদ থাকা বেশকিছু মেশিনে তারিখে রয়েছে ঘষামাজা, আবার কোনো কোনোটিতে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখই লেখা নেই। এছাড়া প্রতিবেদনে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিতদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মেশিনের মেয়াদ শেষ। হঠাৎ আগুন লাগলে এগুলো কোনো কাজেই আসবে না। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ফায়ার এক্সটিংগুইশার মেশিনের কার্যকারিতা কমে গেছে। ফলে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার সময়ে মেশিনগুলো ব্যবহার করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। এই চিত্র শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সম্পর্কে। 

সেগুলোর বেশিরভাগই একেবারেই নাজুক, এরকমও অভিযোগও বিস্তর। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রাসায়নিকের মেয়াদ থাকে সাধারণত এক বছর। নির্ধারিত সময়ের পরে রাসায়নিক রিফিল করা না হলে, তা কার্যকারিতা হারায়। অথচ নিয়মিত রাসায়নিক না পাল্টানো এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা যথাযথ কিনা তা ঠিকঠাক দেখভাল না হওয়ায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সবাইকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়। আমরা মনে করি দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার এক্সটিংগুইশারগুলো ঠিকঠাক কাজ করে কিনা তা নিয়মিত চেকআপ করা ও পাশাপাশি নিয়মিতভাবে অগ্নি দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশিক্ষণ দেবার ব্যবস্থা করা জরুরি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবহৃত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও এর রাসায়নিক নিয়মিতভাবে পাল্টানোর জন্য বরাদ্দের ক্ষেত্রে ঘাটতি যেন না হয়। এছাড়া প্রতিটি হাসপাতালে জলাধার নির্মাণ, ফায়ার অ্যালার্ম যন্ত্র স্থাপনসহ অগ্নিনির্বাপনে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কোন ধরনের দুর্বলতা বা ঘাটতি থাকলে তা সংশোধন করতে হবে, আধুনিক সরঞ্জামের সংকট থাকলে তা দূর করতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি, সকল ক্ষেত্রে, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আমাদের অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে কি না, তা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয় কিনা, সে নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রশাসনকেও কঠোর হতে হবে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র গাফিলতিও যেন বরদাস্ত করা না হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া সাধারণের মাঝেও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের সকলের সচেতনতা ছাড়া অগ্নিনির্বাপনে অন্যান্য ব্যবস্থা যথাযথ থাকেলও তা দুর্ঘটনা এড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে না। তাই  সচেতনতা বা সতর্কতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে, যা নিশ্চিত করতে পারবে নিরাপত্তা।