বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করুন

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ পিএম, ২১ মে ২০২১

স্বাস্থ্যখাতে উন্নতি প্রয়োজন। করোনাকাল তা দেখিয়ে দিয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যখাতের দুর্বলতা কোথায় তাও ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং তার সফল বাস্তবায়ন। আমরা এগিয়ে চলেছি উন্নয়নের মহাসড়কে। সরকারের সঠিক নির্দেশনায় উন্নয়নের এই মহাসড়কে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতেই বাড়তি নজর দিতে হবে স্বাস্থ্যখাতে। গত বছর প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ রাখা হয় ২৯ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। ওই বরাদ্দ ছিল জিডিপির ১.০২ শতাংশ এবং মোট বাজেট বরাদ্দের ৫.৬৩ শতাংশ ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে কম ব্যয় করে। এই খাতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করোনাকালে আরও স্পষ্ট। করোনার এই দুর্যোগে আমাদের হাসপাতালগুলোর অবস্থা, আমাদের কোথায় ত্রুটি, কোথায় সীমাবদ্ধতা আছে তাও স্পষ্ট হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে হাসপাতালগুলোতে রোগীর জন্য আইসিইউ বেডের অপ্রতুলতার কথা বারবার আলোচনায় এসেছে।

 দেশের জেলা শহরগুলোর অনেক হাসপাতালেই আইসিইউ বেড নেই, আবার কোথাও বেড থাকলেও তা পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল নেই। সরকার চলতি অর্থবছরে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলা ও এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকার জরুরি ভিত্তিতে ২ হাজার ডাক্তার, ১ হাজার নার্স নিয়োগ করে।  আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ৩৮৬ জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ২ হাজার ৬৫৪ জন ল্যাব অ্যাটেন্ডেন্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পাশাপাশি রাজস্ব খাতে ১ হাজার ২০০ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, ১ হাজার ৬৫০ মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান এবং ১৫০ কার্ডিওগ্রাফারসহ মোট ৩ হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করে। এর সবই ছিল প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখনও প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে সার্বিক ব্যবস্থার অনেক ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়ে গেছে। সেগুলোকে বিবেচনায় নিয়েই আসন্ন বাজেট পরিকল্পনা করা হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

 করোনার প্রকোপে শুধু বাংলাদেশই নয়, পৃথিবীর সকল দেশই উপলব্ধি করেছে, স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্ব, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা। আজকের এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের সামনের পথ নির্ধারণ করতে হবে। রীতি অনুযায়ী জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে জুন মাসে। নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির কারণে এবারও বাজেটে স্বাস্থ্যখাত গুরুত্ব পাবে। সেই গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়েই চলতি অর্থবছরের বাজেটে আমরা স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানাই। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় প্রতিবেশী ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে।  সেইসঙ্গে বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ যেন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা মোতাবেক ব্যয় হয়, সেদিকটিও নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা করি। গত বছর থেকে করোনার সংক্রমণের প্রকোপে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুরো চিত্রই উন্মোচিত। স্বাভাবিক সময়েও আমাদের স্বাস্থ্যসেবাখাত নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। সে প্রশ্নগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে করোনার প্রকোপে।

 তাই ভবিষ্যতের সঙ্কট ও বিপদকে  আমলে নিয়েই স্বাস্থ্যখাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে ভুলের সুযোগ নেই। আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দকৃত অর্থ শুধু কেনাকাটাতেই নয়, স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন ঘটাতেই ব্যবহার করতে হবে। আবার শুধু বরাদ্দ বাড়িয়েই স্বাস্থ্যখাতের নাজুক অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব না। আমাদের যেমন বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন বরাদ্দ বাস্তবায়নের সক্ষমতা বাড়ানো। এক্ষেত্রে কোথায়, কীভাবে স্বাস্থ্য বাজেটের অর্থ ব্যবহার হবে সেজন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিরও উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সঠিক ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ। ব্যয় বরাদ্দ নিয়ে আমাদের নীতিকৌশলে কোনো অসংগতি থাকলে তাও দূর করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে, স্বাস্থ্যখাতকে সুরক্ষিত করতে আসছে বাজেট আমাদের জন্য সুবার্তা বয়ে আনবে, এটাই প্রত্যাশা।