ছোবল হানছে বন্যা

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৮:২৪ পিএম, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

উজানী ঢল আর টানা বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। প্রতিদিন বাড়ছে নদ-নদীর পানির স্ফীতি। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত করছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী বানের পানিতে ভাসছে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১২টি জেলা। এইসব জেলার নিম্নাঞ্চল পুরোপুরি পানির তলে। জেলাগুলো হলো কুড়িগ্রাম, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, চাঁদপুর, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া। এসব বন্যা কবলিত এলাকার গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়া গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষ। বানভাসিরা গবাদিপশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট, হাট বাজার, স্কুল কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন স্থাপনা। আমন বীজতলা, আমন ধান খেত ও সবজি খেত তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। বিপৎসীমার ওপরে পদ্মা-তিস্তা-ধরলা ব্রহ্মপুত্র-ঘাঘট-ধলেশ্বরী, দুধকুমারের প্রবাহ। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বহু স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে বহু এলাকায়। বেড়েছে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব। অনেক এলাকায় বানভাসিরা পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছে না। প্রধান নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অভ্যন্তরীণ শাখা নদ-নদী ও চলনবিল উপচে পড়ছে।

বিভিন্ন এলাকায় আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও গাইবান্ধার অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। কুড়িগ্রামে পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গতকাল ধরলার পানি বিপৎ সীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তিস্তার পানিও ছুঁই ছুঁই করছে বিপদসীমা। ফলে জেলার ৯টি উপজেলার আড়াই শতাধিক চর ও নদী সংলগ্ন গ্রাম বন্যার পানিতে ভাসছে। সোমবার পর্যন্ত জেলায় ১৫ হাজার ৫২০ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। সিরাজগঞ্জের নদী তীরের পাঁচ উপজেলার কমপক্ষে ৫০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন। তাঁত কারখানায় পানি ওঠায় বেকার হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। গত সোমবার সেখানে যমুনা নদীর হার্ড পয়েন্টে পানি বিপৎ সীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। লক্ষ্যণীয়, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি বিষয়টি যেমন সামনে আসছে, তেমনি বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন বলেও জানা যাচ্ছে। আর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন এমনটিও খবরে উঠে এসেছে। আমরা মনে করি, সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব করনীয় নির্ধারণ সাপেক্ষে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। জানা গেছে, পানি বন্দি জীবন যাপন করছেন চর ও দ্বীপ-চরসহ নদী তীরের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। নদী ভাঙনে বাঁধ ধসে যাওয়ার বিষয় যেমন সামনে আসছে, তেমনি পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়া এবং মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি জানা যাচ্ছে। একদিকে যেমন কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের মধ্যে মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। আবার এর মধ্যে যদি মানুষ বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা সামনে আসে তবে তা কতটা আশংকাজনক বাস্তবতাকে স্পষ্ট করে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্টদের এটাও আমলে নেওয়া দরকার, দেশের বিভিন্ন সময়ের বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষ কতটা দুর্ভোগে পড়ে তা অজানা নয়। পানি বন্দি মানুষ কেউ পাশের নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কেউ আবার রাস্তা বা বাঁধের উঁচু স্থানে আশ্রয় নেয়। বন্যায় শুকনো খাবার ও শিশু খাদ্যের তীব্র সংকটের বিষয়টিও অজানা নয়। বন্যা ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার ও সমাজের বিত্তবান মানুষের দাঁড়ানো কর্তব্য বিবেচিত হওয়া উচিত। তাদের মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার ওষুধ ও বিশুদ্ধ খাবার পানি বিতরণ করতে হবে। ত্রাণ বিতরণে দায়িত্বশীল হতে হবে।