ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফেরার স্রোত

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১০:৪৬ পিএম, ১১ মে ২০২১

মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার যানবাহন। বন্ধ রয়েছে লঞ্চ এবং ট্রেন। তারপরও থামছে না ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢল। যানবাহন না পেয়ে নানা উপায়ে তারা ঘরে ফিরছে। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের অনুমতি রয়েছে। ফলে অনেকেই বাড়ি ফিরছে মাইক্রোবাস বা প্রাইভেট কার ভাড়া করে। যাদের সে সামর্থ নেই, তারা আন্ত:জেলা বাস চলাচলের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাড়ি ফিরছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে অনেকে গাড়ি না পেয়ে পায়ে হেঁটেও বাড়ির পথে রওনা দিয়েছে। দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন পরিবহনযোগে ভেঙে ভেঙে জেলা সীমানা পার হচ্ছে মানুষ। এক জেলার সীমানা পেরিয়েই আরেক জেলায় ঢুকে নতুন করে গাড়ি পাল্টে চলছে সবাই বাড়ির দিকে। ফলে দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকলেও কার্যত বারবার গাড়ি পাল্টে চলাচল থেমে নেই। আর এতে করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি ও বিস্তারের শঙ্কা আরও কয়েকগুণ বেড়েছে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ফলে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের লাগাম টানতে ঈদের ছুটি কমিয়ে, দূরপাল্লার পরিবহন বাস, লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখে মানুষের গ্রামে যাওয়া আটকে দেওয়ার যে পরিকল্পনা সরকার করেছিল, তা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বিকল্প পথে হাজার হাজার মানুষ গ্রামে ছুটছে। পাশাপাশি ঈদের দিন ঘনিয়ে আসায় শপিংমল ও বিপণিবিতানে উপচেপড়া ভিড়। সকল নিষেধাজ্ঞা ভেঙ্গে, অনুরোধ-আহ্বান-সতর্কতা উপেক্ষা করে মানুষের ঘরে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা এবং সংবাদমাধ্যমে ফেরিঘাট, বিপণীবিতানসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের ঢলের চিত্র আতঙ্কিত করেছে বিশেষজ্ঞদের। এদিকে দেশে মিলেছে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরন। এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগীও সনাক্ত হয়েছেন দেশে। এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি হওয়ায় বিশেষজ্ঞরা সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। ভারতে প্রতিদিনই সংক্রমণ ছড়ানোর রেকর্ড ভাঙছে। দিনে চার হাজার মৃত্যুও প্রত্যক্ষ করছে দেশটি। এ অবস্থায় যথাসাধ্য ঘরে থাকা, প্রয়োজন না থাকলে বাইরে না বেরুনোই উত্তম। করোনার সংক্রমণ রোধে সরকার লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপদ থাকার প্রথম পদক্ষেপ সতর্ক থাকা। মানুষকে সচেতন করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। মানুষ যেন এবারের ঈদ নিজের কর্মস্থলেই উদযাপন করে, সে বিষয়েও সরকারের আহ্বান রয়েছে। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে প্রধানমন্ত্রীও সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থলের এলাকায় অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন। ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই যে আপনারা একসঙ্গে যাচ্ছেন, এই চলার পথে ফেরিতে হোক, গাড়িতে হোক, যেখানেই হোক, কার যে করোনাভাইরাস আছে, আপনি জানেন না। কিন্তু আপনি সেটা বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আপনার পরিবারের কাছে। বাবা-মা, দাদা-দাদি, ভাইবোনÑ যে-ই থাকুক, আপনি কিন্তু তাকেও সংক্রমিত করবেন, তার জীবনটাও মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলে দেবেন।’ করোনাভাইরাসের ভারতীয় ধরনের সংক্রমণ ক্ষমতার তীব্রতা এত বেশি যে এর কবলে ভারত প্রায় বিধ্বস্ত। মৃত্যু ও সংক্রমণের ভয়াবহতা আতঙ্কিত করছে বিশ্বকে। এই ভয়ংকর বিপদ আমাদের এখানেও ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে ধরনটি বাংলাদেশেও সনাক্ত হওয়ায় আশঙ্কা বেড়েছে আরও। গত কয়েকদিন দেশে সংক্রমণের তীব্রতা কমে এলেও, ঈদকে উপলক্ষ করে মানুষের বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল থেকে কোনভাবে যদি ভারতীয় ধরনটি ছড়িয়ে পড়ে, তার ভয়াবহতা সামলানো কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞরা আসছে জুন মাসে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ধাপের আশঙ্কা করছেন। এ অবস্থায় মানুষের বাড়ি ফেরা ঠেকাতে কঠোরতার যেমন প্রয়োজন ছিল, তেমনি যারা ইতোমধ্যে বাড়ি যাবার জন্য পথে নেমেই পড়েছে তাদের যাত্রা সহজ করে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা জরুরি ছিল। ঈদের ছুটি শেষে একইভাবে যেন মানুষ রাজধানীতে বা কর্মস্থলে না ফেরে সে বিষয়ে আমাদের এখনই সতর্কতা ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। করোনার এই আতঙ্কিত ও সংক্রমণ ছড়ানোর ভয়াবহতার মাঝে ঈদে একটু বাড়তি আনন্দের জন্য আমাদের গ্রামে যাওয়ার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। এতে শুধু আমরা নিজেরাই ঝুঁকির মুখে পড়ছি না, একইসঙ্গে আমাদের পরিবারের সদস্যদেরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছি। তাই নিজেকে এবং পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের সুরক্ষিত রাখতে আসুন আমরা সবাই কর্মস্থলের এলাকায় থাকি। নিজেকে, স্বজনকে এবং সর্বপরি দেশকে সুরক্ষিত রাখি।