করোনার বিপজ্জনক ধরন, সচেতন হোন 

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৯:২১ পিএম, ১০ মে ২০২১

বাংলাদেশে শনাক্ত হয়েছে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ধরন। বি.১.৬১৭ নামের এই ধরনটি যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ বা উদ্বেগজনক ধরন হিসেবে তালিকাভুক্ত। ভারতে দ্রুত করোনা সংক্রমণ ঘটার পেছনে নতুন এই ধরনটিকে দায়ী মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে ধরনটির প্রবেশ ঠেকাতে সরকার সীমান্তে পণ্যবাহী যান ছাড়া সব ধরনের যাতায়াত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। বন্ধ হয়ে যায় সকল ধরনের যোগাযোগ। তারপরও অনুমতি নিয়ে অনেকেই দেশে ফিরেছেন। তাদের কয়েকজনের নমুনা পরীক্ষায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা অনেক বেশি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করছে ভারত। সেখানে পরিস্থিতি কতোটা নাজুক ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আমাদের জানা। ভারত গত কয়েকদিন ধরে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুতে বিশ্বে রেকর্ড গড়ছে। এ অবস্থায় আমাদের সতর্কতার বিকল্প নেই। আমাদেরকে আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 আমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। শারীরিক দূরত্ব মেনে চলাসহ স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন। অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তার উল্টোটাই ঘটছে। মানুষকে নিরাপদ রাখতে সরকার লকডাউন ঘোষণা করেছে। ঈদের ছুটিতে কর্মজীবীদের সবাই যেন এবারে নিজ কর্মস্থলের এলাকায় অবস্থান করে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ রেখেছে। তারপরও মানুষ ছুটছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে সবাইকে ঈদে ছোটাছুটি না করে, যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ উদযাপন করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই মার্চে  করোনার সংক্রমণ যেভাবে আমাদের দেশেও বাড়ছিল, যেভাবে মৃত্যুর সংখ্যা ও সংক্রমণের নতুন রেকর্ড তৈরি করেছিল, তা ছিল রীতিমতো আতঙ্কের। সেই আতঙ্কজনক অবস্থা এখন নেই।

 সংক্রমণের তীব্রতা এখন কম। কিন্তু আমরা যদি ঈদ উপলক্ষে আবারও ছোটাছুটি বাড়িয়ে দেই, এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাই, তাতে শঙ্কা রয়েছে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর। ভাইরাস সংক্রমণের হার যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, মানুষ যেন বিপদগ্রস্ত না হয়, পরিস্থিতি যেন ভয়াবহ না হয়ে উঠতে পারে সেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা থেকেই প্রধানমন্ত্রী ঈদের ছুটিতে ছোটাছুটি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বেঁচে থাকলে তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা হবে। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঈদ উপলক্ষে সবাই ছোটাছুটি না করে। যে যেখানে আছেন সেখানেই ঈদ উদযাপন করেন। ‘ঈদ-উল-ফিতরের সরকারি ছুটিতে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না’ এমন বিধান রেখে ষষ্ঠ দফায় ছুটি বাড়িয়ে সরকার সাধারণ ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সংক্রমণ ঠেকাতে যাতায়াত সীমিত রাখারও সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। যাতে সারাদেশে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। তারপরও মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফেরার খবর আসছে সংবাদমাধ্যমে। ঈদে বাড়ি ফিরতে বের হওয়া মানুষের ফেরি পার হওয়ার যে দৃশ্য সংবাদমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে, তা শুধু বেদনারই নয় একইসঙ্গে হতাশারও। 

সরকারের প্রচার-প্রচারণা, সতর্কবার্তা, পার্শ্ববর্তী দেশে সংক্রমণের ভয়াবহতার এর কোন কিছুই যে আমাদের বড় অংশকে সতর্ক করতে পারেনি, তা স্পষ্ট। ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবার জন্য বাসস্ট্যান্ড, ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি ফেরা মানুষের যে উপচেপড়া ভিড় তৈরি তা করোনা পরিস্থিতিতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের চেষ্টাকে পরিহাস করছে। এ অবস্থা কোনভাবেই সচেতন মানুষের কাছ থেকে কাম্য হতে পারে না। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই বাড়ি ফেরার উদ্যোগ আগামীতে জাতির জন্য কত বড় বিপদের ক্ষেত্র তৈরি করছে, তাতে বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত। সরকারের উদ্যোগে আমাদের স্বার্থেই সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমাদের নিরাপদ রাখার প্রয়োজন থেকেই সরকারের সকল নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত। আমরা সবাই যদি সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে দেই, আমরা যদি সচেতন না হই, সতর্ক না হই তাহলে সরকারের পক্ষে সকলকে নিরাপদ রাখার উদ্যোগ কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আমাদেরই ব্যক্তি পর্যায়ে সতর্ক হতে হবে।