পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০১:০৬ এএম, ১০ মে ২০২১

পবিত্র লাইলাতুল কদর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে এক মহিমান্বিত রাত হিসেবে আরাধ্য ও স্বীকৃত। হিজরি সালের রজমান মাসেই এ দিনটি মহান আল্লাহ তায়ালার বিশেষ নিয়ামত ও রহমত হিসেবে প্রতি বছর ফিরে আসে। মুসলিম বিশ্বে এ রাতটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। কঠিন সিয়াম সাধনার মধ্যে বিশেষ ইবাদত ও অধিক সওয়াবের আশায় ধর্মীয় ভাব গাম্ভির্যের মধ্য দিয়ে পালিত হবে এ রাতটি। আজ ২৬ রমজানের দিন শেষে পবিত্র ক্বদরের রাত-পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর। রমজান মাসের ২৭ তারিখে, অনেকের মতে রমজানের শেষ ১০ দিনের যে কোনো বেজোর তারিখের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা:) এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়েছিল। আল কোরআন এমন একটি মহাগ্রন্থ যার মধ্যে পূর্ববর্তী সব আসমানি কিতাবের সারবস্তু এবং ভূ-মন্ডল ও নভোমন্ডলের যাবতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের মৌল নির্দেশনা একত্রিত করা হয়েছে। বস্তুত আকাশ ও মাটির এমন কোনো গোপন রহস্য নেই যার উল্লেখ আল কোরআনে না আছে। পবিত্র এ গ্রন্থটিকে আল্লাহ মানুষের জন্য জীবন বিধান হিসেবে পাঠিয়েছেন। মক্কার নিকটবর্তী হেরাপর্বতের গুহায় শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পবিত্র কোরঅন অবতীর্ণ হয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা) মক্কায় ছিলেন ১৩ বছর। মদিনায় তার ১০ বছর কেটেছিল। আল কোরআন নাজিল শুরু হয়েছিল বলেই লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব ও মর্যাদা অপরিসীম বাস্তবে যার কোনো তুলনা নেই। স্বয়ং আল্লাহতায়ালা বলেছেন, লাইলাতুল ক্বদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’’ (সুরা কদর-৩) আল্লাহ আরও বলেছেন, ‘ এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশস্তারা অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। (সুরা ক্বদর-৪) এই রাতে আল্লাহ গুনাহগার বান্দাদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ দেখান এবং তাদের মাফ করেছেন। ভালো কাজ না করার কারণে।

 তওবা-এস্তেগফার ও ইবাদতের মাধ্যমে সম্মানিত ও মর্যাদাবান হয়ে উঠতে পারে। এ জন্যই রাতটিতে বেশি বেশি ইবাদতের তাগিদ দিয়েছেন রাসুলুল্লাহ (সা)। তিনি নিজেও কদরের সারারাত আল্লাহর ইবাদতে কাটাতেন। শুধু এই একটি রাত নয়, রাসুলুল্লাহ (সা) রমজানের শেষ ১০ দিনই ইতিকাফ করতেন, যার অর্থ পৃথিবীর সবকিছু ছেড়ে কেবলই আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিনের প্রশংসায় মগ্ন থাকা এবং আল্লাহর মাগফিরাত ও রহমতের জন্য মোনাজাত করা। গুনাহর জন্য মাফ চাওয়া। আরবি লাইলাতুল কদর শব্দের অর্থ রাত বা রজনী। কদর শব্দের আরবি আভিধানিক অর্থ আছে একাধিক। সম্মান, মর্যাদাসহ ভাগ্য গণনা নির্ধারণ এমন বেশ কিছু। সম্মান মর্যাদা অর্থে মহান আল্লাহ তায়ালার বান্দা ও তার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) এর উম্মতদের এ রাতে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। ভাগ্য গণনা অর্থে বোঝানো হয়েছে, আল্লাহ ও তার নবীর অনুসারীদের ইহকাল এবং পরকালের অবস্থা ও অবস্থান এ রাতে নির্ধারিত হয়। ইসলামের ইতিহাসে ও জীবন ধারায় এ রাতটির গুরুত্ব অপরিসীম। রমজান মাসে হযরত মুহাম্মদ (সা) এর ওপর পবিত্র ঐশীগ্রন্থ কোরআন নাজিলের যে বর্ণনা রয়েছে, তা প্রথম ঘটে এ রাতে। লাইলাতুল ক্বদরকে কেন্দ্র করে কোরআনে ক্বদর নামে আলাদা একটি সুরাই এর মহিমা প্রকাশ করছি। হাদিসেও পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। হাদিস মতে, রমজান মাসের শেষ ১০ দিনের বেজোড় যে কোনো দিনগত রাতই শবে ক্বদর। তবে ২৬ রমজান পালন করার পর দিন শেষে রাতটি ক্বদর হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ রাতটিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে ও অধিক সওয়াবের আশায় নফল নামাজ ও জিকির আজকার করা হয়। ইবাদতের রাত হিসেবেই এই রাতটি পালিত হোক-এটাই আমাদের একান্ত কামনা। লাইলাতুল ক্বদরে প্রত্যেক মুসলমানেরই উচিত নিজেদের পাশাপাশি জনগণের কল্যাণ এবং দেশের সমৃদ্ধির জন্য আল্লাহর কাছে প্রাণ খুলে মোনাজাত করা।