ছুটিতে থাকতে হবে নিজ এলাকায়

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১২:৪০ এএম, ০৮ মে ২০২১

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে। মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, সুস্থ থাকে সে জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানো ভাইরাসটির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কার্যকর তরিকা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। এজন্য চলতি মাসে দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে লকডাউন। দেওয়া হয়েছে নানা বিধি নিষেধ। ইতোমধ্যে সরকার করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়েছে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে রয়েছে ঈদুল ফিতরের ছুটি। ঈদ মুসলমানদের সবচয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। কর্মজীবী মানুষ, যারা রাজধানীসহ নানা এলাকায় থাকে, কাজের সুবাদে দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকে, তারা ঈদের ছুটির সময়ে বাড়ি ফেরে। প্রিয়জনের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে চায়। প্রতিবছর এ সময় অসংখ্য মানুষ একসঙ্গে বাড়ি ফেরায় পথে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। ঈদযাত্রাকে মসৃণ করতে সরকারের উদ্যোগ থাকলেও, পথের ধারণক্ষমতার তুলনায় মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ায় দুর্ভোগ কমে না। এবারেও ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে উন্মুখ অসংখ্য মানুষ। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েও তারা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যা বাড়িয়ে দিচ্ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি। এ অবস্থা মোকাবেলায় এবারে শুরুতেই সতর্কবার্তা জারি করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরই থাকতে হবে নিজ নিজ কর্মস্থলে। কর্মস্থলের এলাকা ছাড়া যাবে না। এমনকি জনসমাবেশ হয় এমন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানও বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি হয়েছে। ঈদযাত্রা ঠেকাতে শর্ত মেনে জেলার অভ্যন্তরে গণপরিবহণ চলাচল করতে পারলেও দূরপাল্লার গণপরিবহণ বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় দফা ঢেউ এখন বাংলাদেশে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাস সংক্রমণ হার কম থাকলেও মার্চ মাস থেকে বাড়তে থাকে সংক্রমণ হার। হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়তে থাকে রোগী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সংকটের কথাও সংবাদমাধ্যমে আসতে থাকে। তবে আশার কথা, এপ্রিল পেরিয়ে মে মাসে এসে সংক্রমণ হার কমতির দিকে। ইতোমধ্যে সনাক্ত এবং মৃত্যু হার কমতে শুরু করেছে। এ অবস্থাকে ধরে রাখতে আমাদের এখন প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা। সংক্রমণের এই নি¤œগতি দেখে যদি, আমরা অসতর্ক হই, অপ্রয়োজনে বাইরে যেতে থাকি, মাস্ক ব্যবহার না করি, শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করি, তাহলে পরিস্থিতি ঘুরে যাবার আশঙ্কা রয়েছে। আর সেই আশঙ্কা যেন সত্যি না হয়, মানুষ যেন নিরাপদ থাকে, সেজন্যই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে সরকারের নিষেধাজ্ঞা। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে এবং নিজে সুস্থ রাখতে ও অন্যকে সুস্থ রাখতে আমাদের সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করা প্রয়োজন। সরকারের সিদ্ধান্ত মানার বিষয়ে আন্তরিক হওয়া জরুরি। একটি ঈদে প্রিয়জনের সঙ্গে থাকার চেয়ে জীবন অনেক বেশি মূল্যবান। দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ, খোলা থাকছে আন্ত:জেলা পরিবহন। এটাকে সুযোগ ভেবে যদি ভিড়ে, গাদাগাদি করে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করে, সরকারের নিষেধাজ্ঞা না মেনে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করা হয়, তবে তা নিজেকে যেমন তেমনি পরিবারকেও বিপদে ফেলতে পারে। এজন্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ঈদে ‘চোরাই পথে’ বাড়ির পথে না ছুটতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘লকডাউনে অনেকেই চোরাই পথে আসা-যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছে, সম্প্রতি পদ্মায় স্পিডবোট ডুবিতে ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছে। এ ধরনের ঝুঁকি নিলে উৎসবের আগেই মৃত্যুর ট্র্যাজেডি অনিবার্য হয়ে পড়ে, কাজেই এ ধরনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাই’। ব্যক্তি সচেতনতা জরুরি। মহামারী ঠেকাতে সরকারের প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যক্তি সচেতনতা। ব্যক্তি নিজে যদি সচেতন না হয়, তাহলে সরকারের একার পক্ষে মহামারী সামাল দেওয়া কঠিন। আমাদেরকেও বিপদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে। আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যদি নিয়ম-কানুন না মানি, আমাদের অবেহলায় যদি সংক্রমণ বাড়ে, তাতে ক্ষতি আমাদেরই। তাই আমাদের প্রত্যাশা নিজে নিরাপদ থাকতে ও প্রিয়জনকে নিরাপদ রাখতে এবারের ঈদ উৎসবে সবাই নিজ নিজ এলাকায় থাকি। ঈদযাত্রায় সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে ঘরে থাকি। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করি।