সরকারি প্রতিষ্ঠানকে স্বাবলম্বী হতে হবে

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ০৬ মে ২০২১

ব্যবসার উদ্দেশ্য মুনাফা করা। সেবা প্রদানের মাধ্যমে যৌক্তিক পর্যায়ের মুনাফাকে ব্যবসায়ে উৎসাহ দেওয়া হয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের শুরুতে পুঁজি প্রয়োজন। সেই পুঁজিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এগুনোর চেষ্টা করে। পুুঁজির সফল ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। মুনাফার সন্ধান করে। বেসরকারি পর্যায়ে যে কোন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে দাঁড়াতে যে পুঁিজ, পরিশ্রম এবং অবকাঠামো ও জনবলের জন্য শুরুতেই বিনিয়োগ করতে হয়, তাতে করে মুনাফা আসতে বা প্রতিষ্ঠানটিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে সময়ের প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সরকারি প্রতিষ্ঠান। কারণ কোম্পানি গঠনের শুরুতেই তাদের ঝুলিতে থাকে বাড়তি কিছু সুবিধা। তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকেই দেয়া হয় চার্টার, কোম্পানি অ্যাক্ট অনুযায়ী নিবন্ধন, পুঁজি এবং প্রয়োজনীয় লোকবল। তারপরও আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ লোকাসানের খাতায় নাম লিখিয়েছি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান চলে ঢিমেতালে, মুনাফার মুখ দেখা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যৎসামান্য। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেককেই সরকারের তরফ থেকে নানারকম ভর্তুকি নিয়ে চলতে হয়। এমনকি তাদের নিজস্ব ব্যয়ের জন্যও সরকারের তহবিল থেকে বরাদ্দ নিতে হয়। যা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য সুখকর নয়। এ অবস্থা থেকে সরকারি কোম্পানিগুলোকে বের করে আনার তাগিদ দীর্ঘদিনের। প্রতিষ্ঠানগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে সরকারের সহায়তা ছাড়াই মুনাফা করে প্রতিষ্ঠিত, সেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানি খাত থেকে বেরিয়ে আসুক, এ প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। অবস্থার পরিবর্তনে এবারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি প্রতিষ্ঠানকে স্বাবলম্বী হতে নির্দেশ দিয়েছেন। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ এনইসি কেন্দ্র প্রান্তে যুক্ত হয়ে একনেক সভায় এ নির্দেশ দেন। সরকারি সংস্থাগুলোকে ‘নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর’ নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মতো সরকারি সব সংস্থাকে নিজেদের টাকায় চলতে হবে।

 নিজেরা যে টাকা আয় করে, সেই টাকা দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারি সংস্থাগুলো নিজেদের টাকায় চলার বিষয়টি আলোচনায় আসে একনেকে বিটিসিএলের একটি প্রকল্প অনুমোদন প্রসঙ্গে। ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে টেলিযোগাযোগ স্থাপন’ শিরোনামের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প তো বিটিসিএল নিজেদের টাকায় বাস্তবায়ন করতে পারে। কারণ, তারা নিজেরা আয় করে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে উদ্ধৃতি দিয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, সরকারি সংস্থাগুলো তো নিজেরা আয় করে। তাহলে যে টাকা আয় করে, সেই টাকা দিয়ে কেন চলতে পারে না। কেন সরকারের দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। এজন্যই সরকারি সংস্থাগুলোকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো এবং স্বাবলম্বী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে সংস্থাগুলোকে টাকা দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় কমবে, তেমনিভাবে কাজের ক্ষেত্রেও আসবে স্বচ্ছতা। কারণ সরকার যেসব কোম্পানি গঠন করে দিয়েছে, তারা শুধুই নামেই কোম্পানি থাকুক, তা কোনভাবেই কাম্য নয়। সরকারি অর্থের বিপুল অপচয় রোধ করতে এ ক্ষেত্রে সংশোধিত এই উদ্যোগ আগামীতে কোম্পানিগুলোর পরিচালনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কর্মকান্ডেরও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। সরকারি কোষাগার থেকে টাকা দিয়ে কেন দিনের পর দিন এসব কোম্পানিকে টানা হবে সেই প্রশ্নটিরও মীমাংসা হবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে। ব্যাংক,  আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি কোম্পানিকেই নিজেদের টাকা দিয়েই চলার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানিগুলো যারা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং সততাও নিশ্চিত হবে। কারণ, সরকারের সকল সুবিধা নিয়ে গঠিত এসব কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করে দিনের পর দিন সরকারের তরফ থেকেই আবার বিভিন্ন খাতে অর্থ নেবে, তা অর্থনৈতিক দিক থেকে তো বটেই ব্যবসায়িক দিক থেকেও  গ্রহণযোগ্য নয়।