এগোচ্ছে পদ্মা সেতুর কাজ

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১০:২৮ পিএম, ০৫ মে ২০২১

পদ্মা সেতুর পুরো স্ট্রাকচারের কাজ শেষ হয়েছে। ১ মে মাওয়া প্রান্তে সর্বশেষ গার্ডার স্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় স্ট্রাকচার স্থাপনের কাজ। যার মাধ্যমে সমাপ্তি হলো পদ্মা সেতু নির্মাণের বড় একটি ধাপ। এরপর সড়ক ও রেলের স্ল্যাব বসানো সম্পন্ন হলে সেতু দিয়ে যানবাহন ও ট্রেন চলাচল শুরু হবে। খুলে যাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৯ জেলার সঙ্গে সারা দেশের সরাসরি সংযোগের দুয়ার। পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য পদ্মার দুই প্রান্তের দুটো জেলার সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে। যার মাধ্যমে শুধু দুটো জেলাই নয়, পুরো বাংলাদেশেই স্থাপিত হচ্ছে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত। পদ্মা সেতু নির্মাণের স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। যা বাস্তবায়ন করছেন, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান বাস্তবতা। অথচ এই সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়ায় শুরুতে ছিল অনেক বাধা। ছিল অর্থের সংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা। প্রথমেই উঠেছিল দুর্নীতির অভিযোগ। অথচ সেই অভিযোগ ছিল ষড়যন্ত্র, যা প্রমাণ হয়েছে পরবর্তীকালে। সেতুর অর্থায়নের ঋণ প্রস্তাব বাতিল করে বিশ্বব্যাংক।

সবমিলিয়ে পদ্মা সেতু আমাদের জন্য হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বর্তমান সরকার সফল। সকল জটিলতা ও ষড়যন্ত্রের জালকে ছিন্ন করে একাই অবিচল দাঁড়িয়ে যান আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দৃঢ় সিদ্ধান্ত আর আত্মবিশ্বাসেই স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ দৃশ্যমান বাস্তবতা। পদ্মা সেতু খুলে দিয়েছে অপার সম্ভাবনার দুয়ার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু চালু হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত হবার সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট বলছে, পদ্মা সেতু চালু হলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে এক শতাংশ হারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতে, এ সেতুর ফলে দেশের জিডিপি এক দশমিক দুই ও আঞ্চলিক জিডিপি তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিবিএস এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে বলছে, এই পরিমাণ জিডিপি বাড়লে পদ্মা সেতু দেশের অর্থনীতিতে বছরে ৩৫ হাজার কোটি টাকার জোগান বাড়াবে। বিশ্ব ্অর্থনীতির অন্যতম পরাশক্তি চীনও মনে করছে পদ্মা সেতু প্রতি বছর বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রায় ১.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসবে। সরকারও পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে নদীর পাশেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সিটি, হাইটেক পার্ক, অলিম্পিক ভিলেজ, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নৌবন্দর, অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন, ইকোনমিক করিডোর, আধুনিক রেল, সড়ক ও নৌ-এই ত্রিমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। পদ্মা সেতুসংলগ্ন জাজিরার নাওডোবা এলাকায় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী গড়ে ওঠার প্রক্রিয়া চলমান। পদ্মা সেতু রাজধানী এবং বন্দর নগরী চট্টগ্রামের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করবে, যাতে করে দেশের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধির আশা দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। সব মিলিয়ে পদ্মা সেতু আমাদের জন্য খুলে দিচ্ছে অপার সম্ভাবনার দুয়ার। এ সেতুর মধ্য দিয়ে দেশের দুই প্রান্তের মানুষের মাঝে সংযোগ স্থাপিত হবে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিতে আনবে নতুন বিপ্লব, বাড়বে কর্মসংস্থান। সেতুকে ঘিরে ইতোমধ্যে বাড়ছে পর্যটন সম্ভাবনাও। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর মূল নির্মাণকাজের অগ্রগতি শতকরা ৯৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। যা গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী। এতে করে আশা করা যায়, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২১ সালের নির্ধারিত সময়েই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অনন্য প্রতীক পদ্মা সেতুর। এই সেতু শুধু আমাদের সবচেয়ে বড় প্রকল্পই নয়, একই সঙ্গে এক থেকে দেড় শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়ার এবং দারিদ্র্যের হার কমিয়ে আনারও মহাকাব্য। পদ্মা সেতু শুধু রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে দক্ষিণ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ করবে না। একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর এ অঞ্চলে নিয়ে আসবে বিনিয়োগ সম্ভাবনা। যাতে করে তৈরি হবে কর্মসংস্থানের সুযোগ, অর্থনীতিতেও আসবে গতি। যার সুফল ছড়িয়ে পড়বে পুরো দেশে। আমাদের প্রত্যাশা, সময়ের অপেক্ষা শেষে যথাসময়ে বাস্তবায়িত হবে দেশকে এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন।