শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৮:১৭ পিএম, ০৩ মে ২০২১

বিজ্ঞানের অগ্রগতি আমাদেরকে যেমন দিয়েছে গতি তেমনি জীবনকে সুখকর ও আনন্দদায়ক করতে দিয়েছে নানা উপাদান। সেইসব উপাদানের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখা মানুষ যখন ক্রমশ নিঃসঙ্গ হয়ে যাই, ক্রমশ আলাদা হয়ে পড়ে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ থেকে। তখন তার মাঝে ভর করে হতাশা। না পাবার বেদনা। যার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তির জীবনে প্রবেশ করে মাদক। ব্যক্তির নিঃসঙ্গতা, অসহায়ত্ব এবং বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু মানুষ তরুণদের হাতে তুলে দিচ্ছে মাদক। মাদক শুধু ব্যক্তির অপার সম্ভাবনাময় জীবনকেই ধ্বংস করে না, তা পরিবার, সমাজ তথা সমগ্রজাতিকেই গ্রাস করে। একটি দেশের চালিকাশক্তি, তার ভবিষ্যৎ তরুণসমাজ। তারুণ্যের উদ্দামতার ওপর ভর করে দেশ ও জাতি এগিয়ে চলে। কিন্তু তারুণ্যের সেই শক্তিকে যখন গ্রাস করে নেয় মাদক, তখন দেশ ও জাতির ধ্বংসই ত্বরান্বিত হয়। কারণ মাদকের ভয়াবহ ছোবলে ক্রমশ পঙ্গু ও অসাড় হয়ে পড়ে তারুণ্য। ভেঙ্গে পড়ে সমাজের মেরুদন্ড। মাদক তাই অভিশাপ। সাময়িক আনন্দ পাবার মোহ থেকে মাদকের যে হাতছানি, তা তারুণ্যকে যেমন তেমনি দেশকেও ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটিয়ে বিজ্ঞানীরা মানুষের কল্যাণে আবিষ্কার করেন বিভিন্ন ধরনের জীবনদায়ী বেদনানাশক ওষুধ। অথচ এ সব ওষুধই ধীরে ধীরে আজ নেশার সামগ্রীতে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞানের আবিস্কারের সুফল ভোগ না করে আমরা তাকে কুফল হিসেবেই বেছে নিয়েছি।  যা আজ সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। মাদককে সামাজিক ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 এর ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়া আমাদের দিশেহারা করে। অথচ লোভের নেশায় কোমলমতি তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে মাদক। মাদকের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানো প্রয়োজন। সেই প্রয়োজন থেকেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার বার্তা। সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, চলতি বছর মার্চের ১১ তারিখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগকে পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। মাদকের বিষয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সেই নীতি বাস্তবায়ন এবং মাদকমুক্ত দেশ গড়ার অংশ হিসেবেই শিক্ষার্থীদের ভর্তির আগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, যুগান্তকারী এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৫ম সভায়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির সময় যেমন ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে, তেমনি একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর তা পুনঃপরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সেটি বাস্তবায়িত ও কার্যকর করা হয়নি। আমরা প্রত্যাশা করি, সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে এবারের সিদ্ধান্তটি চলতি বছর থেকেই কার্যকর করা হবে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সজাগ করতে উদ্যোগের কমতি নেই। জনসচেতনতামূলক কর্মকান্ডও রয়েছে।

 তারপরও মাদকের ছোবল থেকে আমরা নিরাপদ নই। সুস্থ সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে যে পরিকল্পনা ও উদ্যোগ তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এর মাধ্যমে সমাজের সকল স্তরের মানুষের মধ্যে মাদক বিরোধী বার্তা খুব সহজেই পৌঁছবে।যেভাবে প্রতিনিয়ত মাদকসেবীর সংখ্যা বাড়ছে, যেভাবে তরুণদের বিপথে চালিত করা হচ্ছে, তা থেকে মুক্তি পেয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে ডোপ টেস্টের সিদ্ধান্তটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিনিয়ত মাদকের ভয়াল থাবা যেভাবে আমাদের গ্রাস করছে, আমাদের শিক্ষার্থীদের যেভাবে এই মরণ নেশার দিকে টেনে নিচ্ছে, তা ঠেকাতে এই উদ্যোগের বিকল্প নেই। আমরা মনে করি মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি দেশে মাদকের প্রবেশের চিহ্নিত পথগুলো বন্ধ করতে হবে। সেইসঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে সতর্ক হতে হবে, নিজের ভবিষ্যত সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে হবে।