স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ ঈদ যাত্রা নয়

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ১৯ মে ২০২০

মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব দুই ঈদে মানুষের দলে দলে ঘরমুখী হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। বাস, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে গাদাগাদি করে বাড়ি ফেরা খুবই পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যে এবারের ঈদযাত্রা মানুষের জীবনে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। বর্তমানে দেশে যেভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে বাড়ি যাওয়া এবং ঢাকা থেকে ফেরা আত্মঘাতী হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ সময়কে নিয়েই দুশ্চিন্তা বাড়বে সবার। ঈদে ঘরমুখী মানুষের স্রোত ঠেকাতে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ৩০মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি বাড়ানো হয়েছে। তারপরও অনেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন। শুক্রবার ও শনিবার মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার মানুষের ভিড় দেখা গেছে। অন্য মহাসড়কেও ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বেড়েছে। গত শনিবার রাজধানীর উত্তরায় পিকআপ ভ্যানে দল বেঁধে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে অনেককে। শুক্রবার উত্তরায় আজমপুরের বাস ভাড়া করে এক দল মানুষকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পরিবহন বন্ধ থাকলেও হাজার হাজার মানুষ হেঁটে, ছোট যানে করে এবং লরি, ফেরি হয়ে নদী পেরিয়ে কয়েক ধাপে বাড়ি যাবেন। আর এ সময়টাকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসন। এর আগে গত ২৬ মার্চ থেকে দেশ লকডাউন থাকলেও মাঝে গার্মেন্টস খোলার পরে তা স্থগিত করে আবার খোলায় ব্যাপক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। গার্মেন্টস খোলা হলে সংক্রমণ বাড়বে বলে যে পূর্বাভাস তারা দিয়েছেন তা সত্যি হয়েছে। এবার ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময়ে উপসর্গ ছাড়া সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে অনেকে আক্রান্ত হবেন। অভিযোগ উঠেছে দফায় দফায় ছুটির মেয়াদ বাড়লেও গার্মেন্টস কারখানা এবং অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান চালু করায় মানুষের ভিড়ে সামাজিক দূরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না, যার কারণে সংক্রমণের উর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। অতএব, আপনারা যে যেখানে অবস্থান করবেন ও ঈদে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা না করাই ভাল।