করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী 

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৭:২৮ পিএম, ২৬ আগষ্ট ২০২১

দেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই-ই ধাপে ধাপে কমতে শুরু করেছে। হাসপাতাল ও বাসাবাড়িতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেকটাই কম। বাড়ছে সুস্থতার হার। দেশে টানা নয় সপ্তাহ পর প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে তুলনামূলকভাবে মৃত্যুও কমছে। এতে করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আশা দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৪ হাজার ৮০৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৪ লাখ ৬১ হাজার ১৯৮ জন শনাক্ত হলো তবে গত এক দিনে নতুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ৯ সপ্তাহ পর করোনা শনাক্তের এই হার সর্বনিম্ন। এ ছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় দেশে আরও ১৩৯ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ হাজার ২৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের (২০২০) ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। জুন থেকে রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৪ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৩ আগস্ট। তার আগে ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২০ আগষ্ট শুক্রবার তা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ আগস্ট ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারির মধ্যে একদিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা। এদিকে বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৪৪ লাখ ২২ হাজার ছাড়িয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছে ২১ কোটি ১৫ লাখের বেশি রোগী। ভারতীয় যে ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট এতদিন গোটা দেশ তটস্থ করে রেখেছে, তার দাপটও ম্রিয়মান। খুব জোরে শোরে না হলেও মধ্যম গতিতে এগিয়ে চলছে গণটিকার কর্মসূচি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, সব মিলিয়ে এখন যে অনুকূল পরিস্থিতি, তা করোনা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নিম্নমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতিতে করোনা নিয়ন্ত্রণ যতটা সহজ, উর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে তা ততটাই কঠিন। তাই বিগত সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করোনা সংক্রমণের নিম্নমুখী ধারা চলমান থাকতেই এর লাগাম টেনে ধরা জরুরি। তাদের ভাষ্য, স্বাস্থ্য বিধি মানার ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সচেতন করে তুলতে হবে। প্রয়োজনে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। বাড়াতে হবে, নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা এবং গণটিকাদান কর্মসূচির গতি। তা না হলে আগামী দুই-তিন সপ্তাহ পর করোনা সংক্রমণ ফের ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ওয়ার্ল্ডো মিটারস ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে আনার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফের তা হু হু করে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার কঠোর বিধি নিষেধ। এমনকি সর্বাত্মক লকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে। এতে সংক্রমণ ধাপে ধাপে কমলেও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে আসতে যথেষ্ট সময় লেগেছে। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না, করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে যেমন জনসচেতনতা জরুরি, তেমনি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার দিকে অধিক মনোযোগী হতে হবে। হাসপাতালগুলো শয্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকুলান দিতে না পারলে পরিস্থিতি আরো ভয়ানক হতে পারে এমন আশংকাও আছে। এটাও এড়ানো যাবে না, দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হলে লকডাউন বাস্তবায়নে সরকার কঠোর ভূমিকা পালন করলেও সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশে আগের মতোই উদাসীন এমন খবর উঠে এসেছিল। তুুচ্ছ কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে, এমনটিও জানা গিয়েছিল- যা অত্যন্ত পরিতাপের জন্ম দেয়। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন হোক এমনটি কাম্য। করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী 

দেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই-ই ধাপে ধাপে কমতে শুরু করেছে। হাসপাতাল ও বাসাবাড়িতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেকটাই কম। বাড়ছে সুস্থতার হার। দেশে টানা নয় সপ্তাহ পর প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমে ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে তুলনামূলকভাবে মৃত্যুও কমছে। এতে করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আশা দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা। দেশে গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৪ হাজার ৮০৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ দেশে এ পর্যন্ত মোট ১৪ লাখ ৬১ হাজার ১৯৮ জন শনাক্ত হলো তবে গত এক দিনে নতুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ৯ সপ্তাহ পর করোনা শনাক্তের এই হার সর্বনিম্ন। এ ছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় দেশে আরও ১৩৯ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ হাজার ২৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের (২০২০) ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। জুন থেকে রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৪ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৩ আগস্ট। তার আগে ২৮ জুলাই দেশে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত ২০ আগষ্ট শুক্রবার তা ২৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ আগস্ট ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যুর খবর আসে, যা মহামারির মধ্যে একদিনের সর্বোচ্চ সংখ্যা। এদিকে বিশ্বে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৪৪ লাখ ২২ হাজার ছাড়িয়েছে। আর শনাক্ত হয়েছে ২১ কোটি ১৫ লাখের বেশি রোগী। ভারতীয় যে ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট এতদিন গোটা দেশ তটস্থ করে রেখেছে, তার দাপটও ম্রিয়মান। খুব জোরে শোরে না হলেও মধ্যম গতিতে এগিয়ে চলছে গণটিকার কর্মসূচি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, সব মিলিয়ে এখন যে অনুকূল পরিস্থিতি, তা করোনা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নিম্নমুখী সংক্রমণ পরিস্থিতিতে করোনা নিয়ন্ত্রণ যতটা সহজ, উর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে তা ততটাই কঠিন। তাই বিগত সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে করোনা সংক্রমণের নিম্নমুখী ধারা চলমান থাকতেই এর লাগাম টেনে ধরা জরুরি। তাদের ভাষ্য, স্বাস্থ্য বিধি মানার ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে দ্রুত সচেতন করে তুলতে হবে। প্রয়োজনে আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। বাড়াতে হবে, নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা এবং গণটিকাদান কর্মসূচির গতি। তা না হলে আগামী দুই-তিন সপ্তাহ পর করোনা সংক্রমণ ফের ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ওয়ার্ল্ডো মিটারস ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া পরিসংখ্যান চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে আনার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফের তা হু হু করে বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার কঠোর বিধি নিষেধ। এমনকি সর্বাত্মক লকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে। এতে সংক্রমণ ধাপে ধাপে কমলেও মৃত্যুর হার নিয়ন্ত্রণে আসতে যথেষ্ট সময় লেগেছে। সঙ্গত কারণেই সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না, করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে যেমন জনসচেতনতা জরুরি, তেমনি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার দিকে অধিক মনোযোগী হতে হবে। হাসপাতালগুলো শয্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংকুলান দিতে না পারলে পরিস্থিতি আরো ভয়ানক হতে পারে এমন আশংকাও আছে। এটাও এড়ানো যাবে না, দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক লকডাউন শুরু হলে লকডাউন বাস্তবায়নে সরকার কঠোর ভূমিকা পালন করলেও সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশে আগের মতোই উদাসীন এমন খবর উঠে এসেছিল। তুুচ্ছ কারণে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে, এমনটিও জানা গিয়েছিল- যা অত্যন্ত পরিতাপের জন্ম দেয়। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন হোক এমনটি কাম্য।