বন সুরক্ষা জরুরি 

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ পিএম, ৩০ এপ্রিল ২০২১

পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে প্রয়োজন নির্মল বায়ু ও জীববৈচিত্র্য। এজন্য দরকার টেকসই বনভূমি। বনভূমি সংরক্ষণের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে পরিবেশের সুরক্ষা, নিশ্চিত হবে বাসযোগ্য পৃথিবী। অথচ প্রকৃতি ও পরিবেশের অকৃত্রিম বন্ধু বনভূমি প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে। অবৈধদখলদার ও বনখেকোদের জন্য নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে বনভূমি। বনভূমি দখল হচ্ছে, এ অভিযোগ আজকের নয়। আবার বনভূমি দখলমুক্ত করতে সরকারের উদ্যোগ ও আন্তরিকতারও কমতি নেই। তারপরও বনখেকোদের কবল থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না বনভূমি। নানা কৌশলে, নানাভাবে বনভূমি দখল হচ্ছে। এই দখল প্রক্রিয়া রোধ করা না গেলে বনভূমি সংরক্ষণে সরকারের সকল উদ্যোগ ও আন্তরিকতাই ব্যর্থ হবে। অবৈধ দখলদার ও বনখেকোরা নানাভাবে দখল করছে বনভূমি। তারা গাছ কেটে উজাড় করছে বন। এতে বনভূমির সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্যও। বিলুপ্ত হচ্ছে অনেক প্রাণী। বনভূমি দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, দোকান, রিসোর্ট, বাড়িঘর, কৃষি খামার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লাখ হেক্টর, যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮ শতাংশ।

 এর মধ্যে বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৬ লাখ হেক্টর, যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭৪ শতাংশ। সারা দেশে মোট ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৯০৭ একর সংরক্ষিত বনভূমির মধ্যে ৮৮ হাজার ২১৫ জনের দখলে রয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬১৩ একর। বনভূমি দখলের এই চিত্র কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই চিত্রটি বন রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দেয়। এত বিপুল পরিমাণ বনভূমি একদিনে দখল হয়নি। রাতের আঁধারেও হয়নি। যদি যথাযথ কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হতো, নিজেদের দায়িত্বের প্রতি আন্তরিক হতো, তাহলেও এত বিপুল বনভূমি দখল হওয়া ঠেকানো যেতো, বিপুল পরিমাণ বৃক্ষ নিধন আটকানো যেতো। একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকতে হয়। কিন্তু দখল ও উজাড় হতে হতে আমাদের বনভূমি নেমে এসেছে ১৫ শতাংশেরও নিচে। যা প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্যও হুমকির। বন উদ্ধার করে পরিবেশের ভারসাম্য ফেরাতে উদ্যোগ নিতে হবে। কেউ যেন বন দখল করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর হতে হবে।

 এক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পুরনো বন আইন সংশোধনের দাবি রয়েছে। সনাতন পদ্ধতিতে বন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনাসহ কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবের কথাও আলোচনায় রয়েছে। আমরা মনে করি, বন আইনকে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া যেমন জরুরি তেমনিভাবে প্রয়োজন তদারকি ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও সর্বাংশে নিশ্চিত করা। বন আইন সংশোধনসহ যারা অবৈধভাবে বন দখল করে রেখেছে, তাদের কাছ থেকে বনভূমি উদ্ধার এবং উদ্ধারকৃত ভূমিতে নতুন করে গাছ লাগানোর মাধ্যমে বনায়ন কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য ফেরাতে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে বনায়ন কর্মসূচিতে গতি আনতে হবে। পরিবেশ ও প্রকৃতিকে বাঁচাতে বনভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা প্রত্যাশা করি সরকার নতুন বনায়ন কর্মসূচির সঙ্গে সংরক্ষিত বনভূমি দখল মুক্ত করতে কঠোর হবে। অবৈধ দখলদার, বনখেকোদের উচ্ছেদের মাধ্যমে বনভূমির স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বনখেকোদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হবে। যাতে আগামীতে কেউই বনভূমির দিকে নজর দেবার সাহস না করে। প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে না পারে।