তাপে পুড়ছে দেশ

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৬:৪৬ পিএম, ২৯ এপ্রিল ২০২১

তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে সারাদেশের ওপর দিয়ে। গরমে হাঁস ফাঁস করছে মানুষ। পুড়ছে প্রকৃতি। চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী ২৬ এপ্রিল যশোরে তাপমাত্রা ছিল ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা সারাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিন রাজশাহীতে ৪০ দশমিক ৩, খুলনায় ৪০ দশমিক ২, চুয়াডাঙ্গায় ৪০ দশমিক ৫, কুমারখালীতে ৪০, মোংলায় ৩৯ দশমিক ৬, সাতক্ষীরায় ৩৯ দশমিক ২, ঢাকায় ৩৯ দশমিক ৫, গোপালগঞ্জে ৩৯ দশমিক ৫, সীতাকুন্ডে ৩৯ দশমিক ৬, রাঙামাটিতে ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানের তাপমাত্রার এই তথ্য থেকেই অনুমিত হয় গরমের তীব্রতা সম্পর্কে। তবে তাপমাত্রার চেয়েও গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে সারাদেশেই। এর পেছনে রয়েছে বাতাসের আর্দ্রতা। বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ার কারণেই তাপের তীব্রতার চেয়েও গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটের তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, ২৬ এপ্রিল ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৪০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত ২৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে ছিল সর্বোচ্চ।

এদিন ঢাকার বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৬ শতাংশ। এই আর্দ্রতার কারণেই গরমের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে অনেক বেশি। এর আগে ঢাকায় ১৯৯৫ সালে সর্বশেষ ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল তাপমাত্রা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, আবহাওয়া অধিদপ্তর আর্দ্রতার পরিমাণ আরও বাড়ার কথাই বলছে। যাতে গরমের তীব্রতাও বাড়বে। প্রায় সপ্তাহজুড়ে চলা এই তীব্র দাবদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে মানুষের শরীরে দেখা দিচ্ছে নানা প্রতিক্রিয়া। ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত মানুষের ভর্তির খবর আসছে। এ অবস্থায় সতর্কতা ও সচেতনতার বিকল্প নেই। গরমের কারণে শারীরিক যেসব সমস্যার তৈরি হয়, তা থেকে মুক্ত থাকতে খাবার গ্রহণের পাশপাশি জীবনযাত্রাতেও সচেতনতা প্রয়োজন। বয়স্ক ও শিশুদের বিনাপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে পানিসহ তরল পান করতে হবে। গরমে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া থেকে মুক্ত থাকতে সকর্ত থাকতে হবে। এই দাবদাহের মধ্যেও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পালন করছে সিয়াম সাধনা। সারাদিন সিয়াম পালন করার পর, ইফতারের সময়ে ডাবের পানি, লেবুর শরবতসহ রসালো ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। শরীরে এ সময়ে পানির চাহিদা বেশি হলেও পরিমিত পানি পানের পাশপাশি ভাজাপোড়া এড়িয়ে শাকসবজি, ফলমূল খাবার পরামর্শ দিচ্ছেন।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুসরণ করে এ সময়ে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সুস্থ থাকতে সহায়তা করবে। তীব্র গরমের সঙ্গে করোনা মহামারী আমাদের জন্য বাড়তি বিপদ। এ সময়ে প্রয়োজন না থাকলে বাইরে না যাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে যাদেরকে বাইরে যেতেই হবে তাদের যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা জরুরি। নিজেকে এবং অন্যকে নিরাপদ রাখতে আমাদেরকে যথাযথভবে সকল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। গরমের তীব্রতায় ডাইরিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্র্রকোপ বাড়তে না দিতে বাইরের খাবারের বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষায় আমাদের নিজেদেরই সচেতন হতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রকৃতির বিরূপ হয়ে ওঠা টের পাচ্ছে মানুষ। বায়ুমন্ডলে উষ্ণতা বাড়ার যে বার্তা বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন, তা সত্য হয়ে উঠছে। প্রকৃতির প্রতি আমাদের এখনই যতœশীল হতে হবে। বায়ুমন্ডলের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমাতে হবে। অন্যথায় আমাদের জন্য যে ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে তা এড়ানো কঠিন হবে। উত্তপ্ত পৃথিবীতে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ বড় একটি ভূখন্ড তলিয়ে যাওয়ার শংকার ঝুঁকি থেকে বাঁচতে এখনও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সামাজিক বনায়নের পাশাপাশি আমাদের বনভূমি ও গাছপালা রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। শুধুমাত্র গাছই পারে আমাদেরকে সম্ভাব্য বিপদ থেকে মুক্ত রাখতে। গাছই পারে এই তীব্র গরমে শীতল ছায়া বিলাতে। তাই আমাদের গাছ লাগানোর দিকে মনোযোগী হতে হবে। আমরা প্রকৃতির পরিচর্যার মধ্য দিয়েই আমাদের জন্য নিরাপদ আবাস গড়তে পারবো। এজন্য সবাইকে নিজের সাধ্যানুযায়ী কাজ করতে হবে।