টিকা উৎপাদনের উদ্যোগ যুগান্তকারী 

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৬:৪২ পিএম, ২৩ আগষ্ট ২০২১

দেশে প্রতি মাসে চীনের সিনোফার্মের ৪ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদিত হবে। চীনের প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের করোনার টিকা বাংলাদেশে উৎপাদনের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ইনসেপটা ভ্যাকসিন লিমিটেড টিকা তৈরি করবে। গত সোমবার সিনোফার্ম, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইনসেপটা ভ্যাকসিন লিমিটেডের মধ্যে এ চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় চীন থেকে বাল্ক টিকা এনে বাংলাদেশে ভায়ালে ভরা এবং লেবেলিংয়ের কাজ করবে ইনসেপটা। সরকার তাদের কাছ থেকে সেই টিকা কিনে নেবে। সব ঠিক থাকলে মাস তিনেকের মধ্যে ইনসেপ্টা দেশে কোভিড টিকার কাজ শুরু করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক। মন্ত্রী বলেন, তিন মাসের আগেও হতে পারে। বেশি সময়ও লাগতে পারে। সিনোফার্ম চীন থেকে কাঁচামাল সরবরাহ করবে। দেশে টিকা প্রস্তুত করবে ইনসেপ্টা। সরকার এটি কিনে নেবে। টিকার কাজে ইনসেপ্টার সক্ষমতার বিষয়ে জাহিদ মালেক বলেন, তাদের অনেক সক্ষমতা। যদি ১০ ডোজের ভায়াল হয়, প্রায় চার কোটি ডোজ প্রতি মাসে বানাতে পারবে। আর যদি ভায়ালে ডোজ কমে যায়, তাহলে সেটার অনুপাতে সংখ্যা কমে যাবে।

দেশে উৎপাদন করা হলে বাংলাদেশের মানুষের করোনা টিকার প্রাপ্যতা সহজ হবে। এ পর্যন্ত পাওয়া টিকা তিনটি উৎস থেকে এসেছে। ভারত ও চীন থেকে কেনা, ভারত ও চীন সরকারের কাছ থেকে উপহার পাওয়া এবং বৈশ্বিক উদ্যোগ কোভ্যাক্সের অনুদানের টিকা। দেশে যে করোনার টিকা উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে তা সরকারকে কিনতে হবে। তবে ভ্যাক্সিন উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি শুরুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ চীন, রাশিয়া সহ বিশ্বের অন্যান্য ভ্যাক্সিন উৎপাদনকারী দেশের কাছ থেকে ভ্যাক্সিন গ্রহণের কাজ চলমান রাখবে। মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দেশে এ পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রায় ৩ কোটি ডোজ ভ্যাক্সিন চলে এসেছে। যা থেকে ১ম ধাপে দেড় কোটি ডোজ এবং ২য় ধাপে ৫৪ লাখ ডোজ মানুষ গ্রহণ করেছে। অবশিষ্ট ১ কোটি ডোজ ভ্যাক্সিন এই মুহূর্তে দেশে মজুত আছে। এ মাসের ২২ তারিখের পর চীন থেকে সিনোফার্মের আরো ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাক্সিন দেশে আসবে। চীনের পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকেও আরো ভ্যাকসিন নেওয়া হবে। সুতরাং ভ্যাকসিন নিয়ে আগামীতে আর কোনো ঘাটতিতে থাকবে না বাংলাদেশ দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার অর্থ হচ্ছে ১৩ কোটি মানুষের জন্য মোট ২৬ কোটি ভ্যাক্সিন প্রস্তুত রাখতে হবে। এই বিশাল সংখ্যক ভ্যাক্সিন চাহিদা পূরণ করতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের এই চুক্তিটি অনেক বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিকা  উৎপাদনের ওপরই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া উচিত।

কারণ বাংলাদেশ টিকা সংগ্রহের জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে প্রয়োজনীয় টিকা পাচ্ছে না। দেশের অধিকাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনতে যে পরিমাণ টিকার প্রয়োজন সে জন্য সরকার ইতিমধ্যে একটি আশাপ্রদ বিষয়ে কাজ করছে, যা দেশ ও দশের জন্য খুবই দরকারি ছিল। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দেশে করোনা প্রতিরোধকারী টিকার সংকট আর থাকবে না। করোনায় যখন দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই-ই যুথবদ্ধভাবে চলছে, তখন এ ঘটনা মঙ্গল বয়ে আনবে। নিজের দেশে টিক্ াউৎপাদন হলে তা তাড়াতাড়ি ও ঠিক সময়েই পাওয়া যাবে। এ সময় এর থেকে আর বড় প্রাপ্তি কি থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, করোনা শিগগিরই যাচ্ছে না। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর আবারও টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ অবস্থায় নিজেদের চাহিদা মেটাতে হলে বাংলাদেশকে উৎপাদনে যেতেই হবে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী নিশ্চয়তা দিয়েছেন, টিকা সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। এই চুক্তির মাধ্যমে যৌথ উৎপাদনে গেলে আমরা কম দামে ও সহজে টিকা পাব। চুক্তি সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ভাষ্য, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশে সিনোফার্মের টিকা উৎপাদন সম্ভব হবে। প্রতি মাসে ৪ কোটি ডোজ টিকা তৈরির সক্ষমতা রয়েছে চুক্তি সম্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপটার। তবে এ টিকার দাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে টিকা উৎপাদনের আলোচনাও এগিয়েছে। কিন্তু রাশিয়ায় করোনা মহামারি ব্যাপক রূপ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টিকা উৎপাদনের ওপরই বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া উচিত। আমরা মনে করি এ উদ্যোগ যুগান্তকারী।