সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০২:০৩ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০২১

বিশ্ব আজ বিপর্যস্ত করোনা মহামারীর কবলে। পৃথিবীর আজ গভীরতর অসুখ। সেই অসুখের কবলে পুড়ছে বাংলাদেশও। প্রতিদিনই সংক্রমিত ব্যক্তি ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় সরকার লকডাউন ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। এ অবস্থায় তৈরি হয়েছে জীবন ও জীবিকার সংকট। নি¤œ আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ছে আয় হারিয়ে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অনেকেরই জীবনে ছন্দপতন ঘটছে। লকডাউনের কারণে কাজ হারিয়েছেন অনেকেই। করোনার প্রভাবে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ফলে কষ্টে পড়েছেন নি¤œ আয়ের মানুষগুলো। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে করা এক জরিপে জানা যায়, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দেশে পরিবার প্রতি গড়ে ৪ হাজার টাকা করে আয় কমেছে। মহামারির এই সময়ে আয় কমে যাওয়ায় খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমেছে ৫২ শতাংশের মত পরিবারের। অধিকাংশ মানুষের হাত পড়েছে তাদের সঞ্চয়ে। নি¤œ ও মধ্যবিত্তের যে সামান্য সঞ্চয় অনেকের তাও শেষের পথে। মড়ার ওপর খাড়ার খাঁ হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের দাম। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম। ফলে বেড়ে যাচ্ছে জীবনযাত্রার ব্যয়ও। করোনাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচও বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমজীবীদের একটি বড় অংশ রয়েছেন চাকরি হারানোর শঙ্কায়। অনেকেরই নিয়মিত বেতন হচ্ছে না। বেতনের দাবিতে তৈরি পোশাক শিল্পকারখানার শ্রমিকদের রাস্তায় নেমে আসার খবরও বন্ধ হয়নি। করোনার প্রথম ধাক্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

 সেগুলো নতুন করে চালুর সম্ভাবনা জেগে ওঠার আগেই করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউয়ে নতুন আরও প্রতিষ্ঠানকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এতে করে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস বলছে, করোনাভাইরাস মহামারীর আঘাতে অন্তত ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। আর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ব্র্যাক ও পিপিআরসি বলছে, আগে দেশের ২০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র ছিল। এখন সেটা আরও ৫ শতাংশ বেড়ে ২৫ শতাংশে উঠেছে। সামনের দিনে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করে সংস্থা দুুটি। করোনার প্রথম ঢেউয়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগেও অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবারে এখন পর্যন্তও তেমন দেখা যায়নি। ফলে নি¤œ আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এক বছরেরও বেশি সময়। অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠানেই কমেছে লোকবল। অনেক প্রতিষ্ঠানে বাকি পড়েছে শ্রমিকের বেতন। অনেকে লোকসানের খাতার পাতা না বাড়াতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ে বাধ্য হয়েছেন। করোনার প্রথম ধাক্কায় যারা রাজধানী ছেড়েছিলেন, রাজধানীতে তাদের ফেরা তো দূরের, নতুন করে রাজধানী ছাড়ছেন আরও অসংখ্য মানুষ। করোনার ঢেউ মোকাবেলায় আমাদেরকে ঘরে থাকতে হবে। অপ্রয়োজনে বাইরে বেরুনো বন্ধ করতে হবে। যাদের সামর্থ রয়েছে, তাদের পক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকা সম্ভব হলেও যে শ্রমিকের ঘরে খাবার নেই, যাকে সন্তানের খাবারের সংস্থানের জন্য বাইরে বেরুতে হবে, তাদের পক্ষে ঘরে থাকা কঠিন।

 ফলে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। জীবন না জীবিকা? এই প্রশ্নের মীমাংসা ক্রমশ দুরূহ হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় থেকে উত্তরণে নি¤œ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ- যাদের কাছে খাবার নেই, তাদের কাছে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করবে বলেই শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। নানারকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার অভিজ্ঞতা আমাদের থাকলেও, এবারের দুর্যোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবারের দুর্যোগ তৈরি করেছে বহুমাত্রিক সংকট। যা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ। করোনা মহামারী ঠেকাতে চলতি মাস থেকে শুরু হয়েছে লকডাউন। যার প্রভাবে মানুষ আবারও কর্মহীন হয়ে পড়ছে। মানুষের আয়-রোজগার তলানিতে ঠেকছে। নি¤œ ও মধ্য আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। এর সঙ্গে যারা একেবারেই বেকার হয়েছেন, তারা নতুন করে কাজ পাবেন কিনা সে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। নি¤œ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের জীবন ও জীবিকার যে অনিশ্চিত যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার সঙ্গে করোনার থাবা থেকে আমরা বেঁচে যাবো কিনা সে প্রশ্নও বড় হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় মানুষের জীবন নিরাপদ করতে, তাদের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগ বাড়াতে হবে। সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে তার সামর্থ অনুযায়ী। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। নি¤œ আয়ের মানুষকে স্বাস্থ্য ও খাদ্য সুরক্ষা দেবার উদ্যোগ দিতে হবে।