সচেতন হই, উদাসীনতা কমাই

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২১

পর পর শতাধিক মানুষের প্রাণহানি প্রত্যক্ষ করেছে দেশ। করোনাকালের শুরু থেকেই মৃতের সংখ্যা বাড়ছিল। চলতি বছরের শুরুতে সে সংখ্যা কিছুটা কমলেও এই মার্চ থেকেই সংখ্যাটির উর্ধ্বগতি। যা এখন রীতিমতো উদ্বেগ ও আতঙ্কের। চলতি মাসে পর পর শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর তো এসেছেই, সঙ্গে করোনায় মৃতের সংখ্যাও দশ হাজার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে ইঙ্গিত করছে, তা মোটেই আমাদের জন্য সুখকর না। বিশেষজ্ঞরাও বলছে, করোনা সংক্রমণের এই দ্বিতীয় ঢেউ ক্রমশ খারাপের দিকেই যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সে আলামত মিলতেও শুরু করেছে। হাসপাতালে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালগুলোর ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী সেবা নিতে আসছে। সবচেয়ে সংকট হয়ে দেখা দিয়েছে আইসিইউ বেডের অপ্রতুলতা। করোনা সংক্রমিত আশঙ্কাজনক রোগীর জন্য আইসিইউ বেড জরুরি। তাদের জন্য প্রয়োজন হয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অক্সিজেন। কিন্তু হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সাপ্লাইয়ের নিজস্ব প্লান্ট না থাকায় প্রয়োজনের মুহূর্তে  রোগীরা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অক্সিজেন পাচ্ছেন না। ফলে তাদের সুস্থ হতে সময় লাগছে, অনেকের অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে, তাদের আইসিইউ বেড প্রয়োজন পড়ছে। কিন্তু রোগীর সংখ্যার তুলনায় বেডের সংখ্যা কম থাকায়, সংকট তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, আইসিইউ বেড বা আইসিইউ-এর সুবিধার কাছাকাছি প্রযুক্তিসম্পন্ন হাইফ্লো ন্যাজল ক্যানুলাসংবলিত বেড এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অক্সিজেন জোগান দেওয়ার মতো অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সংযুক্ত বেডও ফাঁকা নেই, সবই ভরে গেছে রোগীতে। ফলে হাসপাতালে ভর্তি সংকটাপন্ন কোন রোগীকে আইসিইউ বেডে দেবার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ থাকলেও, তা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

 আইসিইউ সুবিধা সম্বলিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নতুন আবেদন যেমন নিতে পারছে না, তেমনি পুরনো আবেদনও দেখার সুযোগ পাচ্ছে না। কারণ ইতোমধ্যে হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের অনেকেই সংকটাপন্ন অবস্থায় নিতে হয় আইসিইউতে। ফলে আইসিইউ একটি বেড ফাঁকা হলেও ভেতরের রোগীদের থেকেই সেখানে স্থানান্তর করতে হয়। এমন ভয়ঙ্কর অবস্থা শুধু রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেই নয়, এ অবস্থা ঢাকার বাইরেও। তবে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, জেলা শহরগুলো থেকে রাজধানীতে রোগী আসায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩০টিরও বেশি জেলার সরকারি হাসাপাতালে আইসিইউ সুবিধা নেই। ফলে এসব জেলার সংকটাপন্ন্ রোগীর চাপ বাড়ছে রাজধানীর ওপর। আবার যেসব জেলায় আইসিইউ সুবিধা রয়েছে, তাও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। আবার কোথাও কোথাও আইসিইউ বেড পরিচালনার মতো দক্ষ জনবলের সংকটের কথাও সংবাদ মাধ্যমে আসছে। অবস্থা সামাল দিতে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে জরুরি করোনা সংক্রমণ সনাক্তের জন্য দরকার নমুনা টেস্টের সংখ্যা বাড়ানো। তবে হতাশার কথা, গত কয়েক দিনে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমার কথা সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, চলতি সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা কমেছে। অথচ এমন নয় যে, মানুষ নমুনা দিতে আসেনি। বরং নমুনা পরীক্ষা কমলেও উপসর্গ নিয়ে টেস্ট করতে আসা মানুষের ভিড় কমেনি।

 হাসপাতালের বাইরে দীর্ঘ লাইনে শত শত মানুষের দাঁড়িয়ে থাকার কথা এসেছে, যাদের অধিকাংশের রয়েছে জ্বর, কাশি, গলাব্যথাসহ বিভিন্ন করোনা উপসর্গ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও তাদের অনেকে নমুনা দিতে পারেননি। নেওয়া হয়নি এমন অভিযোগও অনেক। বর্তমান সংকটে করোনা নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর বিকল্প নেই। যতো বেশি টেস্ট হবে, যতো বেশি রোগী সনাক্ত হবে, তাতে করে সংক্রমিতদের আলাদা করা সহজ হবে। তাদের সংস্পর্শে আসাদের সনাক্ত করা সহজ হবে। আর এভাবে রোগী সনাক্ত করার মাধ্যমেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা করোনা নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর জোর দাবি জানাই। সেইসঙ্গে জনসাধারণকেও সচেতন হতে আহ্বান জানাই। এত বড় বিপর্যয় মোকাবেলা সরকারের একার পক্ষে কঠিন, যদি না আমরা সবাই সহযোগিতার হাত বাড়াই। করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকার যে সকল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, সেগুলো মেনে চলার মাধ্যমে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, তাহলে অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব। সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবার আগেই আমরা সচেতন হই, উদাসীনতা কমাই। পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক তা অনুধাবন করি।