মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিন

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৯:৩৮ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২১

আমরা পার করছি মহামারীকাল। করোনা মহামারীকালের এই সময়ে সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। স্বাস্থ্যব্যবস্থা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন চিকিৎসক ও নার্স। তাদের সঙ্গে বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। কারোনাকালের এই মহামারীতে তারা চিকিৎসক ও নার্সদের মতোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ প্রয়োজন মেটাতে এ বিষয়ে আমাদের যেমন ঘাটতি রয়েছে তেমনি রয়েছে অবহেলাও। যা মহামারীকালে কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। করোনা মহামারী মোকাবেলার ক্ষেত্রে প্রথমে করোনা সংক্রমিত রোগী সনাক্ত হওয়া জরুরি। আর এই সনাক্তের কাজটিই করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। আক্রান্ত রোগীর নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় নিয়োজিত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। দেশের সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নেই। সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি তথ্য বলছে, দেশের প্রয়োজন দেড় লাখ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। অথচ রয়েছে প্রায় ছয় হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। গত দশ বছর ধরে এ পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পেছনে কাজ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি থেকে পাস করা মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা টেকনোলজিস্টদের বিষয়ে জটিলতা। তবে যেখানে যেটুকু সমস্যা ছিল, তার সমাধানও হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি সম্যাটি সমাধানে ২০০৭ সালে একটি সুপারিশ প্রদান করে। ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে এক দশকেরও বেশি সময়, কিন্তু আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সংকট যে কতোটা প্রকট তা স্পষ্ট হয় করোনা মহামারী কালের প্রথম ঢেউয়েই। সে সময়ে সরকারি হাসপাতালে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সংকট পূরণের লক্ষ্যে এবং করোনা মোকাবেলায় তাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে দেশে করোনা শনাক্তে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন গত বছরের জুন মাসে। তার এই নির্দেশ প্রদানের পরে ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে প্রায় এক বছর। যদিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরেই মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ১ হাজার ২০০ পদ এবং মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের ১ হাজার ৮০০ পদসহ তিন হাজার নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের ৮৮৯টি পদ এবং মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের ১ হাজার ৮০০টি পদে নিয়োগের জন্য ২০২০ সালের ২৯ জুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদনকারীদের ভেতর থেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে ২৩ হাজার ৫২২ ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিভিন্ন গ্রুপে প্রায় ৫০ হাজার জনকে লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচন করা হয়। গত ১২, ১৮ এবং ১৯ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ২২ ফেব্রুয়ারি ও ১০ মার্চ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষাও নেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেনি। এতে করে প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল টেকানোলজিস্ট নিয়োগ হয়নি। বাস্তবায়িত হয়নি প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনাও। নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত না হবার পেছনে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারা রিপোর্ট দিলেই পরবর্তী ব্যবস্থা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কতোটা মারাত্মক ও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ইতোমধ্যে তা স্পষ্ট। প্রতিদিন সংক্রমণ ও মৃত্যুর যে রেকর্ড হচ্ছে, সেই বেদনার ভার অসহনীয় উঠছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে এক বছর আগে যেখানে প্রধানমন্ত্রী তার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন, আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই, সেই সিদ্ধান্ত কাদের অবহেলা-অসতর্কতা এবং দায়িত্বহীনতায় থমকে আছে নিয়োগ প্রক্রিয়া?  যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, এই মহামারীকালেও কাদের সাহস হয় এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি করার? প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ অমান্যের পেছনের হোতা কারা? আমরা প্রত্যাশা করি, এই বিষয়গুলোর স্পষ্ট মীমাংসার পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে যোগ্যদের নিয়োগের মাধ্যমে মেডিকেল টেননোলজিস্টের শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। দ্রুত অভিযুক্তদের শাস্তির আওতায় আনা হোক ভবিষ্যতের দৃষ্টান্তের জন্য, অন্যথায় যে দুষ্টচক্র প্রতিনিয়ত জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বাধা তৈরি করছে, তারা মহীরুহ হয়ে বড় বিপদের ক্ষেত্র তৈরি করবে।