নকল-ভেজালের দৌরাত্ম্য 

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৫:৩১ পিএম, ১৯ এপ্রিল ২০২১

খাদ্যে ভেজাল বা দূষণ একটি বৈশ্বিক সংকট। কিন্তু আমাদের দেশে প্রায় সব ধরনের খাদ্য দ্রব্যেই অবাধে ভেজাল চলে এমন বিষয়ও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবরে উঠে এসেছে। যেসব পণ্য বেশি নকল হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো কসমেটিকস বা প্রসাধনী। জীবন রক্ষাকারী ওষুধও নকল হচ্ছে। মোবাইল হ্যান্ডসেট, অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও বৈদ্যুতিক তারের মতো পণ্য হরহামেশাই নকল হচ্ছে। নকল হচ্ছে সিগারেটের ট্যাক্স-স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল। নকল ও পুনর্ব্যবহার করে সরকারকে বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নকল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত ঠেকানো না গেলে তা একদিকে অর্থনীতিকে আরও ক্ষতির মুখে ফেলবে, তেমনি স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়বে। এ জন্য জানা যায়, নকল পণ্যের তালিকা বেশ বড়। তালিকায় যুক্ত হয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জাম, মশার কয়েল, টাইলস, সিরামিকস সহ নানা পণ্য। চা, চিপস, চকলেট, চানাচুর, নুডলস, বেভারেজ, ঘি, বাটার অয়েল, সস ও মধু নকল হচ্ছে। প্রধান খাদ্যপণ্য চালের প্রতিষ্ঠিত ব্রান্ডের মোড়ক নকল করে নিম্নমানের চাল বাজারে ছাড়ছে একটি চক্র। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএসএফএ), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, র‌্যাব, পুলিশ সহ বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে নতুন নানা ধরনের নকল পণ্য ধরা পড়ছে। ভোক্তারাও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছেন। এমনকি বিভিন্ন ব্র্যান্ড নকল বন্ধে পদক্ষেপ নিতে আবেদন করছে। সম্প্রতি রাজধানীর কাফরুলের দক্ষিণ ইব্রাহিম পুরের আলী আজগর নামের এক ব্যক্তির কারখানায় অভিযান চালায় বিএসটিআই ও র‌্যাব। এই অভিযানে নকল ঘি, বাটার অয়েল ও সমতৈরির প্রমাণ পায়।

 আড়ং, মিল্কভিটা, প্রাণ রেডকাউ সহ নানা ব্র্যান্ডের নকল পণ্য পাওয়া যায়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ৪০ লাখ টাকার নকল পণ্য ধ্বংস করা হয়। গত জানুয়ারিতে এক অভিযানে উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের একটি শপিং মলের দোকানে বিদেশি ব্র্যান্ডের জুস, চকলেট, কফি, চা চাপাতা সহ নানা নকল পণ্য ধরা পড়ে। এসব পণ্যে বিএসটিআইর কোন অনুমোদন ছিল না। রাজধানীর ভাটারায় একটি কারখানায় নকল ও নিম্নমানের জুস ও চকলেট তৈরির কারখানায় অভিযান চালায় বিএসটিআই। গত ৪ মার্চ বংশালের আবুল হাসানাত রোডে ও খিলগাঁওয়ের দুটি কারখানায় অভিযান চালায় বিএসটিআই ও র‌্যাব। এসব কারখানায় নকল নারিকেল তেল তৈরির প্রমাণ পায়। নামি দামি ব্র্যান্ডের মধ্যে বহুজাতিক কোম্পানি ম্যারিকোর প্যারাসুট ব্র্যান্ডের নুডলস পরিবেশকদের মাধ্যমে দোকানে আসে। সম্প্রতি পরিবেশকদের বাইরে অনেকেই নিয়ে আসছেন। সম্প্রতি নুডলস নকল হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে সম্প্রতি নুডুলস নকল হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়েছে কোকোলো নুডলস কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি নকল পণ্য তৈরি বন্ধে অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

 এক বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অভিযানে গুডনাইট, এসিআইসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মশার কয়েল, নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট সহ ইলেকট্রনিক পণ্য, তার নানা ইলেকট্রিক্যাল পণ্য, স্যানিটারি পণ্যসহ বিভিন্ন নকল পণ্য তৈরির প্রমাণ পেয়েছে। নকল পণ্য বিক্রিতে অসাধু ব্যবসায়ীদের অনেকেই এখন অনলাইনকে বেছে নিচ্ছে। বাজার পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার হওয়ায় তারা এদিকে ঝুঁকছে। এ বিষয়ে ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আমরা বলতে চাই, একট সুস্থ সবল প্রজন্ম গঠনের ক্ষেত্রে ভেজালমুক্ত বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। ফলে নিয়মিত মনিটরিং থেকে শুরু করে বাজার তদারকি ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে হবে। আমরা মনে করি, আইনের যথার্থ প্রয়োগ প্রয়োজন, সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা এবং মানুষের সচেতনতার মধ্য দিয়ে দেশে ভেজালকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। আর এটি বন্ধ করার বিকল্প থাকতে পারে না। আমরা চাই, ভেজাল প্রয়োগকারীদের কঠোর হাতে দমন করা হোক, যা আমাদের আগামীতে সুস্থ প্রজন্ম নির্মাণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।