আসুন ভয়াবহতা নিয়ে সচেতন হই

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২১

দেশে প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণ সনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ, আর প্রথম মৃত্যুর খবর আসে ১৮ মার্চ। এরপর বাড়তে থাকে সংক্রমিত রোগী ও মৃতের সংখ্যা। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি বাড়তে শুরু করে সংক্রমণের তীব্রতা। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে করোনা সংক্রমিত রোগী সনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে উঠে আসে। এরপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে সংক্রমণ সনাক্তের হার নেমে আসে এক অঙ্কে। তা হঠাৎই বাড়তে থাকে।  এবার মার্চে শুরু হয় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় এবারের সংক্রমণ বেশি তীব্র। সেই তীব্রতা এমনই, যে ইতোমধ্যে গতবারের সকল রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। প্রতিদিন মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আগের সকল সংখ্যাকে। গত বছরে এত মৃত্যুর সংখ্যা দেখেনি দেশ। তবে এ বছরই আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটো সংখ্যাই রেকর্ড হারে বাড়ছে। ইতোমধ্যে দেশে করোনা সংক্রমিত রোগীর সনাক্ত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় আট লাখ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দশ হাজারের বিষাদময় মাইলফলক। বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২৪ ঘণ্টায় যে ৯৪ জন কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যুর খবর দেয়, তাদের নিয়ে করোনাক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮১ জন। বর্তমানে দেশে পরীক্ষার অনুপাতে সনাক্তের হার ২১ শতাংশ। চলতি বছরের মার্চের শেষ দিনে ৫২ জনের মৃত্যুর পর থেকে এখন পর্যন্ত একটি দিনও দৈনিক মৃত্যু পঞ্চাশের নিচে নামেনি। এর মধ্যে গত সপ্তাহে একদিনে সর্বোচ্চ ৯৬ জনের মৃত্যু হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর গত ১৫ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার কোভিড-১৯ রোগীর। শুধু মৃত্যু হারই নয়, বেড়েছে সংক্রমণের হারও। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত কয়েক দিন ধরেই দিনে ৬ হাজারের বেশি রোগী সনাক্ত হয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল সনাক্ত হয় রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী। জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তালিকায় বিশ্বে সনাক্তের দিক থেকে বাংলাদেশ রয়েছে ৩৩তম স্থানে, আর মৃতের সংখ্যায় ৩৮ তম অবস্থানে রয়েছে। করোনা রোগী বাড়ার এই সংখ্যা এখনই কতোটা বিপর্যয় তৈরি করেছে, সে চিত্র সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। হাসাপাতালগুলোতে উপচে পড়ছে রোগী। কোথাও ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই অবস্থা। একটা আইসিইউ বেডের জন্য তৈরি হচ্ছে হাহাকার। হাসপাতালে ভর্তি এবং সুচিকিৎসা পেতেও এক প্রকার হাহাকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন বলছে। সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্তদের সেবাদানের ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক চাপ। করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়ান্ট আক্রান্তদের ফুসফুসে দ্রুত ক্ষতি করছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্যসহ ভাইরাসের নতুন কয়েকটি ভ্যারিয়ান্ট আমাদের এখানে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক বেশি রোগীর হাসপাতালে অক্সিজেন এমনকি আইসিইউ সুবিধার প্রয়োজন পড়ছে। আর তাতেই তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করলেও, সাধারণ মানুষের অসচেতনতা রয়েছে। ফলে মানুষ এখনো অনুধাবন করতে পারছে না ভয়াবহতা। যা আরও বড় বিপদ ডেকে আনবে বলে শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বজুড়েই করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। দ্রুত ছড়ানোর প্রেক্ষাপটে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির কারণে ইতোপূর্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটিকে মানবতার শত্রু হিসেবে আখ্যা দেয়। করোনা সংক্রমণের এই মহামারীতে বিশ্বসভ্যতা আজ চরম সংকটের মুখে। এ পরিস্থিতি থেকে কবে কীভাবে উত্তরণ ঘটবে, তাও আজ বড় প্রশ্ন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর পৃথিবী এরকম দুর্যোগের মুখোমুখি হয়নি। আমরাও আজ সেই বিপর্যয় মোকাবেলা করছি। করোনার প্রতিষেধক আবিস্কৃত হয়েছে, তবে তা এখনও শতভাগ মানুষের দুয়ারে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আবার করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে মানবশরীরে যে ভ্যাকসিনের প্রয়োগ হচ্ছে, তারও শতভাগ সফলতা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এমনকি যাদের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ হয়েছে, তাদেরও সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাদেরও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। করোনা যে অপ্রতিরোধ্য গতিতে তার থাবা বিস্তার করে চলেছে, এই মুহূর্তে তা প্রতিরোধের বিকল্প নেই। সেই প্রতিরোধ ব্যবস্থাও আমাদের জানা। এখন শুধু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা, মেনে চলা। সেই দায়িত্ব আমাদের নিজ নিজ উদ্যোগেই নিতে হবে, পালন করতে হবে। তাহলেই আমরা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে অতি দ্রুত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে। আমরা মনে করি, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে যা জরুরি তা হল, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা, সচেতন থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।