ঘুরে দাঁড়াক রপ্তানি খাত

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৫:৪৯ পিএম, ১৬ এপ্রিল ২০২১

প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় করোনায় স্থবির রয়েছে পৃথিবী। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত। ঘরবন্দি মানুষ, ফলে থমকে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্যও। করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই, থমকে যেতে থাকে মানুষের জীবনের স্বাভাবিকতা। সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক, নিজেকে আড়ালে রাখা, সরিয়ে রাখা। মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানো সংক্রমণ ব্যাধি করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হবার এটাই সহজ পথ। এজন্য গত বছর, যখন করোনা সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে, তখন প্রতিটি দেশই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। লকডাউন, ছুটি, অন্যদেশের সঙ্গে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়াসহ নানা উপায়ে নিজেদের সুরক্ষার পথ খুঁজতে থাকে। যখন যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসা-বাণিজ্যের পথও। অভ্যন্তরীণ তো বটেই আন্তর্জাতিকভাবেও বন্ধ হয়ে যায় আমদানি-রপ্তানি। এর বাইরে নয় বাংলাদেশও। করোনা সংক্রমণের শুরুতে, গত বছর আমাদের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দেয়, তা এখনও কাটিয়ে ওঠা যায়নি। চলতি বছরের শুরুতে যখন জীবন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপিত হতে শুরু করেছে, তখন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও গতি ফিরতে শুরু করে। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ থেকে আবারও করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় অনেক দেশের সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও আবার তার গতি হারাচ্ছে।

 সংবাদমাধ্যমে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে জুলাই থেকে মার্চ এ ৯ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষমাত্রা ও প্রবৃদ্ধি কোনোটাই অর্জন হয়নি। বরং ঘাটতির মাত্রা বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ২৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয় ২ হাজার ৮৯৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায়  এ সময়ে আয় কমেছে ১৩৪ কোটি ৭ লাখ ডলার বা ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায়, গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। সেক্ষেত্রেও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ। এমনকি চলতি বছর, একক মাস হিসাবেও মার্চে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। মার্চে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার। কিন্তু হয়েছে ৩০৭ কোটি ৬০ ডলার। এক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গত বছর করোনা সংক্রমণে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা দেখা দিতে শুরু করে। ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে।

 আমাদের প্রতিটি সেক্টরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, করোনার কারণে রপ্তানি আয় ভয়াবহভাবে কমে যায়। রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ খাতের বড় বাজার ইউরোপ, আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলো। সেসব দেশেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুরু হয় লকডাউন। যার প্রভাব পড়ে আমাদের রপ্তানি খাতে। একের পর এক বাতিল হয় বিভিন্ন কার্যাদেশ। যাতে করে রপ্তানি আয় কমে আসে। পরিস্থিতি থেকে সহসাই যে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো তাও নয়। তারপরও আমাদেরকে উদ্যোগ নিতে হবে রপ্তানি আয়ের ধস ঠেকানোর। নতুন বাজারের অনুসন্ধান করতে হবে। প্রচলিত পণ্যের বাইরে, নতুন পণ্যের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। যেসব কার্যাদেশ বাতিল হয়েছে, সেসব স্থানে নতুন করে প্রবেশের চেষ্টা করতে হবে। পুরো বিশ্বই মোকাবিলা করছে করোনা মহামারী। পরিস্থিতি মোকাবিলার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে রপ্তানি বাণিজ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। ইতোমধ্যে করোনা মহামারীকালে রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেসকল সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে, দ্রুত সেগুলোর সমাধানের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই রপ্তানি বাণিজ্যে গতি আনতে হবে। আমরা প্রত্যাশা করি খুব শিগগিরই আমাদের রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়াবে।