মাহে রমজান 

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২১

স্বাগত মাহে রমজান। বাংলাদেশ ও বিশ্বের মুসলমানদের দুয়ারে আবারও উপস্থিত হয়েছে পবিত্র রমজান-রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের বাণী নিয়ে। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে এ তিন ধাপে ইবাদত বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের প্রশান্তি লাভ করবে মুসলমানরা। ভোগ বিলাস, অপচয় এবং অসংযমের অসঙ্গত পথ থেকে মানুষকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়  এ মাস। সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য রচনাকারী পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল এ মহিমান্বিত মাসে। আত্মসংযমের মাধ্যমে বিশ্বাসীরা যাতে ইন্দ্রিয় ও আত্মিক উভয় দিক থেকে সর্বশক্তিমান আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানে নিয়োজিত হয় সে উদ্দেশ্যে সব সুস্থ ও সাবালক নর-নারীর জন্য সিয়াম সাধনাকে অবশ্য পালনীয় ইবাদত হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এ পবিত্র মাসে বিশ্বাসী মানুষ যা কিছু অকল্যাণকর তা পরিত্যাগ করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের প্রয়াস পায়। মাহে রমজানের শিক্ষা আত্মসংযমের মহিমান্বিত। রাসুলে করিম (স) এ মাসকে উম্মতের মাস হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

 রহমত, বরকত আর নাজাতের সওগাত নিয়ে এটি ধনী-গরীব, ছোট বড়, আরব-অনারব সবার কাছে ফিরে আসে। এ মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুসলমানরা তাদের ইমানী চেতনা জাগ্রত করে এবং আত্মশুদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর নিবেদিত বান্দা মহান সুযোগ লাভ করে। রমজানের ইবাদতের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসলামী সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার নেটওয়ার্ক তথা মেলবন্ধন গড়ে ওঠে বলে রোজা ও হজ মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতীক। কোরআন মজিদে মহান আল্লাহতায়ালা বলেছেন,  তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, অবশ্যই তাকে রোজা রাখতে হবে, সিয়াম সাধনার দ্বারা বান্দার পাপরাশি মুছে যায়। রোজা শিক্ষা দেয় কীভাবে আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য্য, সংযমী ও সহানুভূতিশীল হওয়া যায়। ধৈর্য ধরে বিপদ মোকাবিলা করার সবকও পাওয়া যায় সিয়াম সাধনায়। খোদাভীরুদের জন্যই আল্লাহ ঘোষণা করেন : রোজা আসার জন্যই, আমিই এর প্রতিদান দেব’।

 রমজানের সম্মান মানে শুধু পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকা নয়, বরং যাবতীয় পাপকর্ম, নীতিবহির্ভূত ও গর্হিত কাজ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে হাদিসে। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ঐশী নির্দেশ লংঘন করে এ মাসকে কেউ কেউ অসংযম ও লোভ-লালসা পূরণের সুযোগ হিসেবে বেছে নেয়। সিয়াম সাধনায় নিয়োজিত বিশ্বাসী মানুষের জন্য বিড়ম্বনা সৃষ্টি করে তাদের অসংযত মনোভাব। রোজার মাসে নিত্য পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে রোজাদারদের কষ্টের মুখে ঠেলে দেওয়া সামাজিক দৃষ্টিতে গর্হিত, তেমনি ধর্মীয় দিক থেকেও গুনাহ বলে বিবেচিত। মাহে রমজানে যারা নিত্য পণ্যের মূল্য বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে বেছে নেয় তাদের কর্মকান্ড কোনোভাবেই ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ গর্হিত কর্মকান্ড দমন সরকারের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত। প্রশাসন ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে তার ওপর রোজাদারদের স্বস্তি যেমন নির্ভরশীল তেমনি নির্ভরশীল সরকারের সুনামও।

 প্রতি বছরের মতো এ বছরও নিত্য পণ্যের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। কেন পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও নিত্য পণ্যের দাম বাড়ছে, কেন সিয়াম সাধনার মাসে ব্যবসায়ীদের একাংশ মুনাফাখোরিতে লিপ্ত হচ্ছে তা সামলে আনতে সরকারকে অবশ্যই দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে। সারা বিশ্ব এখন মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুতে কাহিল। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। দ্বিতীয় দফায় করোনার ঢেউ দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। করোনা রোধে সরকারের তৎপরতা ও ইতিবাচক পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও জনসচেতনতার দারুণ ঘাটতি রয়েছে। আমাদের প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে। প্রাত্যহিক জীবন ও মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আসুন আল্লাহর কাছে আমরা প্রার্থনা করি, দেশবাসী যেন এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা পায়। পবিত্র রমজান মাসে সমাজ থেকে সব ধরনের কুপ্রবৃত্তি রোধে সবাই এগিয়ে আসবেন এই প্রত্যাশা আমাদের। স্বাগতম মাহে রমজান।