মহাসংকটে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৩:৫২ পিএম, ১৮ মে ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাংলাদেশে ২৬ মার্চ থেকে চলছে সাধারণ ছুটি, যে কারণে স্কুল কলেজ সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে ট্রেন, বাস, লঞ্চ সহ গণপরিবহণ। একদিকে খেটে খাওয়া মানুষের রোজগারে টান পড়ছে, অন্যদিকে বাইরে বেরুলে সংক্রমণের ঝুঁকি- এ যেন উভয় সংকট। আবার অন্যদিকে ঘরে খাবার নেই, চক্ষু লজ্জায় হাতও পাততে পারছেন না। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্তদের। এমন খবর যখন সামনে আসছে, তখন তার ভয়াবহতা কী রূপ বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষজন, বিশেষ করে কল-কারখানার শ্রমিক-গৃহকর্মি, রিকশা চালক ও পরিবহণ শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তবে শুধু নিম্ন নয়, মধ্য আয়ের মানুষের রোজগারেও করোনাভাইরাসের ‘লকডাউনের’ প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মিদের বেতন কাটছে কিংবা অর্ধেক বেতন দিচ্ছে, এমনকি বেতন দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠছে। যদিও সরকার বেশ কিছুদিন ধরেই কর্মিদের বেতন না কাটা এবং কর্মি ছাঁটাই না করার জন্য নিয়োগদাতাদের প্রতি আহবান জানিয়ে আসছে। মধ্যবিত্তদের সঞ্চিত অর্থ শেষের পথে, আছেন চাকরি হারানোর শঙ্কায়। এ ছাড়া সরকারের কোনো প্রণোদনার মধ্যেও নেই তারা। ফলে চলমান লকডাউনের মধ্যে মহাসংকটে পড়েছেন বাংলাদেশে গৃহবন্দি কয়েক কোটি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত। উল্লেখ্য, পৃথিবী দুর্ভিক্ষের ঝুঁকির মুখে এমন বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এখন যখন চলমান লকডাউনের মধ্য মহাসংকটে পড়েছেন বাংলাদেশে গৃহবন্দি কয়েক কোটি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত, তখন এই বিষয়টি এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। আমলে নেয়া দরকার, অনেকেই টাকা ধার করেছেন। অথচ এই অবস্থা আরও দীর্ঘ হলে অনেককেই পথে নামতে হবে এমন আশঙ্কাও উঠে এসেছে। সঙ্গত কারণে ই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করণীয় নির্ধারণ ও তা বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। সরকারের কার্যকর ও সফল উদ্যোগই কেবল পারে গরিবের বেঁচে থাকাকে স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাভাবিক করতে। এর কোনো বিকল্প নেই।