মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজারে স্থবিরতা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ১৮ মে ২০২০

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যাপক কড়াকড়ির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে ইতিমধ্যেই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছে। আবার অনেকে কাজ না পেয়ে বিদেশেই মানবেতর জীবন যাপন করছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। দুনিয়া জুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ২১ মার্চ থেকে সৌদি আরব সহ ১০টি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। এর আগে এক মাসে দেশে ফিরেছেন চার লাখ চল্লিশ হাজার মানুষ। অভিবাসী নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের হিসেবে এর অর্ধেকই ছিলেন প্রবাসী শ্রমিক, যারা পরবর্তীতে আরও যেতে পারেননি বা সময় মতো ফিরতে ব্যর্থ হওয়ায় কাজ হারিয়েছেন। কিন্তু যারা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থেকে গেছেন তাদের অনেককেই লকডাউন শুরুর পর কাজ হারিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে।

বিশেষ করে যারা ফ্রি ভিসায় গিয়েছিলেন তাদের অবস্থা অত্যন্ত করুন, বিশ্বের ১৬৯টি দেশে যে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি কাজ করে, তাদের পঁচাত্তর ভাগই মধ্যপ্রাচ্যের এবং তারাই মূলত রেমিট্যান্সের বড় অংশের যোগান দেন। এবার করোনা ভাইরাস মহামারির শুরুতেই ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, নিয়মিত ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার পরেও বাংলাদেশ সরকার ফেরত নিয়ে এসেছে প্রায় চার হাজার শ্রমিককে। এ ছাড়া চলতি মাস নাগাদ আরও ২৯ হাজার শ্রমিককে নিয়ে আসার কথা রয়েছে। কিন্তু এ অবস্থা যদি চলতেই থাকে তাহলে পাল্টে যেতে পারে বাংলাদেশের শ্রম বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি। শুধু সৌদি আরবই নয়, ওমান, কাতারসহ আরও কয়েকটি দেশ থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ফেরত আনার তালিকা বেশ লম্বা। এমনকি মালয়েশিয়াতে সংকুচিত হচ্ছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জায়গা। ইতিমধ্যে প্রবাসীদের জন্য সরকার, ২শ কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে, যারা দেশে ফিরেছেন বা ফিরে আসবেন তারা যেন সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে কাজ করতে পারেন সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।