নৌ-দুর্ঘটনা রোধে ব্যবস্থা

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১২:৫৪ এএম, ০৮ এপ্রিল ২০২১

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় লঞ্চডুবির ঘটনায় ৩৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। ৪ এপ্রিল, রোববার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ এলাকায় নির্মাণাধীন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর সামনে একটি কার্গোর ধাক্কায় ডুবে যায় যাত্রীবাহী এমভি রাবিতা আল হাসান নামের লঞ্চটি। সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ঘটনার সময় নদীর তীর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এসকে-৩ নামে একটি কার্গো জাহাজ বেপরোয়া গতিতে লঞ্চের পেছন দিকে সজোরো ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপর ঘূর্ণিঝড় শুরু হওয়ায় তাৎক্ষণিক উদ্ধার কাজ সম্ভব না হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার পরে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্বজনহারা মানুষের ক্রন্দন-আহাজারিতে এখন ভারী শীতলক্ষ্যা পাড়। এরকম দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এসব দুর্ঘটনার পেছনে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রীবহন, চালকদের অদক্ষতা-অনভিজ্ঞতা, লঞ্চের নকশায় সমস্যা, লঞ্চের ফিটনেস তদারকির অভাব ইত্যাদি জানা থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে নদীপথে মুখোমুখি সংঘর্ষ বা পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে। এর আগে বুড়িগঙ্গা নদীতেও এধরনের একটি দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ প্রাণ হারায়।  প্রতিবছরই লঞ্চ দুর্ঘটনায় শত শত মানুষ মারা গেলেও কারও শাস্তির কথা জানা যায় না। লঞ্চ দুর্ঘটনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে আমাদের আইন-কানুনও অপর্যাপ্ত। সড়ক পথে দুর্ঘটনার সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতেই যেন বাড়ছে নৌপথে দুর্ঘটনার সংখ্যা। নৌ দুর্ঘটনার সংখ্যাই বলে দেয় নৌপথও আজ নিরাপদ নয়।

 সাধারণত দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কিংবা অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে নৌ দুর্ঘটনা ঘটলেও সাম্প্রতিক সময়ে নৌচালকদের অসতর্কতা, দায়িত্বহীনতাতেও দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। এবারে শীতলক্ষ্যা নদীতে দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চের উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের অনেকেই সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করে বলেছেন, যাত্রীবাহী লঞ্চটি নির্মাণাধীন শীতলক্ষ্যা সেতুর কাছাকাছি যাওয়ার পর পেছন থেকে এসকে-৩ নামে কার্গো জাহাজ লঞ্চ বরাবর দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসে। এ সময়ে লঞ্চের পেছনে থাকা যাত্রীরা হাত নেড়ে লঞ্চ বরাবর না এসে পাশ দিয়ে যাবার ইশারা করলেও কার্গোটি সরে না গিয়ে বরং লঞ্চটিকেই সরে যেতে বলে। লঞ্চ যাত্রীদের অনুরোধ কার্গোর চালক ও তার সহযোগীরা শোনেনি। দ্রুত গতিতে কার্গোটি এগিয়ে এসে লঞ্চের পেছনে সজোরা ধাক্কা মারে। এতে লঞ্চটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার অভিযানও সমাপ্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার খবর আর পড়তে চাই না। স্বজন হারানোর বেদনায় ভারি হয়ে উঠুক নদীপাড়ের বাতাস, তা চাই না। 

এ জন্য প্রয়োজন সতর্কতা, আর সেই সতর্কতা জারি রাখতে আমরা প্রত্যাশা করি এবারের দুর্ঘটনাসহ প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ যথাযথভাবে অনুসন্ধান করা হবে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। অতীতেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে, মৃত্যুর সংখ্যাও অনেক। কিন্তু দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কারো শাস্তি হয়েছে এমন সংবাদ কম। আমরা মনে করি প্রতিটি দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার পাশাপাশি দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমে আসবে। পাশাপাশি লঞ্চ দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের কঠোর শাস্তির বিধান করা জরুরি। সেইসঙ্গে সঠিক নকশা, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং চালকের দক্ষতাও নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই দুর্ঘটনার সংখ্যা কমানো সম্ভব হবে। এর অন্যথা হলে কিংবা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে নৌপথে শৃঙ্খলা আনা যাবে না।