মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৬:৪৮ এএম, ০৬ এপ্রিল ২০২১

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০ অনুযায়ী দেশে অ্যালকোহল ছাড়া অন্য কোনো মাদকদ্রব্যের চাষাবাদ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বহন, পরিবহন, আমদানি, রপ্তানি, সরবরাহ, কেনা, বিক্রি, ধারণ, সংরক্ষণ, গুদামজাতকরণ, প্রদর্শন, প্রয়োগ ও ব্যবহার করা যাবে না। এই আইন ভঙ্গকারীদের জন্য শাস্তিরও বিধান রয়েছে। তারপরও দেশে মাদকের ব্যবসা চলছে। হরহামেশাই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অবাধে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রির কথা উঠে আসছে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল বাংলাদেশে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। যাদের ৮৪ শতাংশ পুরুষ, ১৬ শতাংশ নারী। এছাড়া প্রতিবেদনটিতে দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ মাদক ব্যবসার সঙ্গে নানাভাবে জড়িত বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। বর্তমান পৃথিবীর অসংখ্য সমস্যার মধ্যে প্রধানতম সমস্যা মাদক। মাদকের ভয়াবহতা আজ বিশ্ব জুড়েই। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

আমাদের দেশেও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে মাদকের বিস্তার। তরুণ সমাজ মাদকের ভয়াবহ ছোবলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকের অবাধ প্রবাহ এবং সহজলভ্য হওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা ও মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে মাদক মামলার আসামিদের বিনা বিচারে পার পেয়ে যাবার কারণেও মাদকের বিস্তার বাড়ছে। সম্প্রতি একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা কর্তৃক পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো শতাধিক মামলার কথা বলা হয়েছে, যেসব মামলায় সাক্ষীর অভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায় থেকেই আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর আগে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অন্য একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পণ্যবাহী গাড়ি সন্দেহের বাইরে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যবাহী গাড়ি ব্যবহৃত হচ্ছে ইয়াবা পাচারের বাহন হিসেবে। বাংলাদেশে ইয়াবা আসে মিয়ানমার থেকে। দেশটির সঙ্গে আমাদের সীমান্তের যে স্থানগুলো ইয়াবা পাচারের জন্য চিহ্নিত, আমাদের প্রশ্ন সেই স্থানগুলো কি যথাযথভাবে আমরা বন্ধ করতে পেরেছি। যদি না পেরে থাকি, তাহলে প্রথমেই আমাদের দায়িত্ব সীমান্ত নিñিদ্র করা। এটা যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা নিশ্চিত করতে পারবো, ততক্ষণ পর্যন্ত দেশে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি রোধ করা কঠিন। একইভাবে দেশের ভেতরে মাদকের যেসব চালান বিভিন্ন উপায়ে ঢুকে পড়ে, সেগুলোর উৎস সন্ধান করতে হবে। দেশের ভেতরে মাদক পাচার ও সামান্য মাদক বিক্রির অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে যেসব ব্যক্তি আটক হয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর হাতে, তাদের সূত্র ধরেই মাদক ব্যবসার মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে হবে, তাদেরকে শাস্তি আওতায় আনতে হবে। প্রতিনিয়ত মাদক মামলা হয়, এসব মামলার সংখ্যা বাড়লেও, তুলনামূলকভাবে মাদকসেবী ও মাদকের ব্যবহার কমেনি।

তাই শুধু মাদক মামলা বাড়ার সংখ্যা দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণে আত্মতৃপ্তির সুযোগ নেই। বরং মাদকের বিস্তার রোধে, সমাজ থেকে মাদকের ভয়াবহতা কমাতে সীমান্ত নিশ্চিদ্র করার পাশাপাশি মাদকের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে হবে। যেসব মাদক মামলা হয়, তার কোনোটিতেই যেন প্রকৃত অপরাধীই সাক্ষীর অভাবে পার না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সদস্যদের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতাও জরুরি। আদালতে সাক্ষী হাজির করার ব্যর্থতার দায় যাদের ওপর বর্তায়, তাদেরকে সতর্ক করতে হবে যাতে করে সাক্ষীর অভাবে কেউ পার না পায়। মাদকের ভয়াবহতা থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে কঠোরতার বিকল্প নেই। মাদকের ভয়াবহ ছোবলের শিকার যে কেউ হতে পারে, একটু অসতর্কতায় ধ্বংস হয়ে যেতে পারে যে কোনো পরিবার। তাই আমাদের সকলকেই সতর্ক থাকতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায় যে বিপদসংকেত আমাদের সবার সামনে ঝুলছে, তা থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে উঠবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রত্যেককে প্রত্যেকের জায়গায় থেকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।