সংক্রমণরোধে আবারও লকডাউন 

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৭:৪১ এএম, ০৫ এপ্রিল ২০২১

করোনার শুরুতেই বিশ্বজুড়ে লকডাউন শব্দটি পরিচিতি পেতে শুরু করে। সংক্রমণ কমাতে বিশ্বজুড়ে লকডাউন শুরু হয়। করোনার প্রথম সংক্রমণ ঠেকাতে আমাদের দেশে পুরো লকডাউন ঘোষণা করা হয়নি। সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরবর্তীকালে দফায় দফায় সে ছুটি বাড়ানো হয়। মাঝে সংক্রমণের প্রকোপ কমতে থাকে। চলতি বছরের প্রথম দুমাস সংক্রমণের নি¤œমুখী প্রবণতা আমাদের স্বস্তি ফেরায়। কিন্তু সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। তৃতীয় মাস থেকেই শুরু হয় করোনার দ্বিতীয় ওয়েভ। এবারে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়তে শুরু করেছে রোগী। গুরুতর শ্বাসকষ্টের রোগির জন্য আইসিইউ বেড জরুরি, হলেও রোগীর তুলনায় বেডের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কম। আর যেভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তা রীতিমতো আতঙ্কের। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে এক সপ্তাহের লকডাউনে যাচ্ছে সারা দেশ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজের সরকারি বাসায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে লকডাউনের কথা জানান। সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে এক সপ্তাহের জন্য সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। করোনা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে হয়তো লকডাউনের সময়সীমা বাড়বে। করোনা ভাইরাসের নতুন ঢেউ শুরু হবার পর, ইতোমধ্যে আগের সকল রেকর্ড ভঙ্গ হয়েছে। গত বছর মার্চ মাসে দেশে করোনা রোগী সনাক্তের পর যে হারে সংক্রমণ ছড়িয়েছিল, এবারে তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। গত বছরের করোনাভাইরাসের সঙ্গে এবারে ছড়ানো ভাইরাসের গঠনেও পার্থক্য রয়েছে। নতুন গঠনের করোনা ভাইরাসটিই আগের সব রেকর্ড ভেঙে ভয়াল রূপে তাড়া করছে। চলতি বছর মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এমন স্তরে তার উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করে, যেখানে পৌঁছুতে করোনা সংক্রমণের প্রথম দফায় সময় লেগেছিল প্রায় চার মাস।

 প্রথমবার সংক্রমণ শুরুর পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ জেলাকে রেড জোন ঘোষণা করেছিল, ভাইরাসের সংক্রমণ এ পর্যায়ে আসতে সেবার সময় লেগেছিল প্রায় চার মাস। আর এবারে করোনা তার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ জেলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১-এ। গত বছর এপ্রিল মাসের এক তারিখে যেখানে করোনা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ছিল একজন। সেখানে এবার এপ্রিলের প্রথম দিন করোনা সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ৫৯ জন। শুধু তাই নয়, গত বছর এপ্রিলের এক তারিখে সংক্রমণ সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল তিনজন। আর এবার এপ্রিলের প্রথম দিন সংক্রমণ সনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৪৬৯ জন। যা চলতি বছর এখন পর্যন্ত একদিনে শনাক্ত করোনা রোগির সংখ্যা। এই অবস্থাকে সামাল দেওয়ার জন্য দেশে লকডাউনের ঘোষণা। এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনা মহামারি বর্তমানে যে অবস্থায়, তা নিঃসন্দেহে সবার জন্যই উদ্বেগজনক। সাধারণের এই উদ্বেগ সরকারকেও স্পর্শ করেছে। লকডাউনের ঘোষণার মাধ্যমে তা যথার্থভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে। এর আগে সরকার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ১৮ দফা নির্দেশনাসহ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের আগেই পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে যাতে করে গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে জরুরি ছিল। কারণ সংক্রমণ কমাতে আমাদের শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার যে বাধ্যবাধকতা, তা সঠিকভাবে পালনে লকডাউন বড় ভূমিকা রাখবে। নতুন করে সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রবণতা রোধ করতে আমাদেরকে কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যা আমরা ইতোমধ্যে সঠিকভাবে পালনে ব্যর্থ হয়েছি, ফলে মহামারি আবার নতুন করে ছড়িয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের সেই উদ্যোগে সাধারণ মানুষকেও সাড়া দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, করোনাভাইরাসের মতো অতিসংক্রামক রোগের সংক্রমণ রোধের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। নিজে ভালো থাকার জন্য ও অন্যকে ভালো রাখার জন্য এবারে লকডাউনে আমাদের সেই বিষয়টিই নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই করোনা সংক্রমণের গতি আমরা রুখতে পারবো। সংক্রমণের ব্যাপকতা কমাতে পারবো।