রোজার আগেই বাজার গরম

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ০৮:৪৭ এএম, ০৪ এপ্রিল ২০২১

দফায় দফায় বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। একের পর এক  বড় হচ্ছে দাম বাড়ার তালিকা। প্রতিদিনই এ তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন পণ্য। করোনার কারণে গত এক বছরেরও বেশি সময় থমকে রয়েছে জীবন ও জীবিকার স্বাভাবিক গতি। করোনামহামারীকালে মানুষ যখন জীবন বাঁচানোর তাগিদে আশ্রয় নিয়েছিল ঘরে, তখনও বাজারে কারসাজির মাধ্যমে দাম বাড়ানো থেমে থাকেনি। তখনও মুনাফালোভীরা বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতে দ্বিধা করেনি। বাজারে যথেষ্ট সরবরাহ থাকার পরও, শুধুমাত্র ক্রেতার চাহিদা থাকায় অসৎ মনোবৃত্তি সম্পন্ন ব্যবসায়ীরা মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা করা থেকে বিরত থাকেনি। দাম বাড়াতে বাড়াতে তারা কিছু পণ্যের দাম এমন পর্যায়ে নিতে সক্ষম হয় যাতে করে সরকার বাধ্য হয় দাম নির্ধারণ করতে। আলু, আদার দাম হাতের নাগালের বাইরে নিয়ে যেতে তারা সংকোচ করেনি। এর আগে পেঁয়াজ ও লবণের মতো নিত্যপণ্যের বিক্রয়মূল্য এমনভাবে বাড়ানো হয়, যাতে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এর পেছনে কাজ করেছে অসৎ ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফা করার কৌশল। বাজারকে অস্থিতিশীল করা, মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে মুনাফা লোটার এই কৌশল সবচেয়ে বেশি প্রয়োগ হয় রমজান মাসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রমজানে সরকারের বাজার মনিটরিং তৎপরতা অন্যসময়ের চেয়ে বেশি থাকায়, গত কয়েক বছর ধরে রমজানের আগেই পণ্যের দাম বাড়ানোর কৌশল অবলম্বন করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।

কিছুদিন ধরেই পণ্যের দাম বাড়োনোর যে অপকৌশল চলছে তা আরও একধাপ বেড়েছে বিগত পবিত্র শব-ই-বরাতকে উপলক্ষ করে। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, পবিত্র এই রাতকে উপলক্ষ্য করে আরেক দফা বাড়ে নিত্য ভোগ্যপণ্যের দাম। এবারে বাড়ানো হয় বুটের ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, ঘি, গরম মসলা, পেস্তা-বাদাম-কিসমিস, সুগন্ধি চাল ও মাংসের দাম। নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের ওপর এবারে বাড়তি চাপ করোনার নতুন করে সংক্রমণ। করোনাসংক্রমণ কমাতে, মানুষকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে সরকার ইতোমধ্যে আঠারো দফা নির্দেশনা জারি করেছে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে গণপরিবহনে যাত্রী সংখ্যা ইতোমধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনার নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য গণপরিবহনেও ভাড়া বেড়েছে ষাট শতাংশ। ফলে চতুর্মুখী চাপে এখন দিশেহারা ক্রেতারা। অবস্থা শুধু নি¤œবিত্তের জন্যই সংকট ডেকে আনছে না, বিপদে ফেলছে মধ্যবিত্তকেও। আয়ের সঙ্গে ক্রমশ সঙ্গতিহীন ব্যয়ের হিসেবে মেলোতে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণের। অন্যান্য বছর রমজানের আগে কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়লেও এবারের তালিকা অনেক বড়, যা প্রতিদিন আরও বড় হচ্ছে। চালের বাজার এ সময় স্থিতিশীল থাকলেও, এবারে চালের বাজারেও তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।

দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা পণ্যের সরবরাহ ঘাটতির কথা উল্লেখ করলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, রমজানের আগে পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি নেই। সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। এমনকি সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী রমজানে পণ্যের দাম বৃদ্ধির যৌক্তিক কারণ না থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন। তারপরও দামবৃদ্ধি থেমে নেই। আমরা মনে করি, বাজার নিয়ন্ত্রণের নিয়মিত মনিটরিংয়ের যেমন বিকল্প নেই, তেমনি বাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিও এক্ষেত্রে নিশ্চিত করা জরুরি। দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি এবং নিয়মিত মনিটরিংই পারে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে। ব্যবসার উদ্দেশ্য মুনাফা। কিন্তু সেই মুনাফা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের যেমন ব্যবসায়িক সততা জরুরি তেমনি বাজারে যেন কেউ কারসাজি করতে না পারে সেদিকটিও নিশ্চিত করা জরুরি। দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুতে কোনো সমস্যা নেই। যেসব দেশ থেকে বাংলাদেশ ভোগ্যপণ্য আমদানি করে, সেসব দেশ থেকেও পণ্যের আমদানি অব্যাহত আছে। তাহলে পণ্যের দাম কেন অস্বাভাবিক হারে বাড়বে? দাম বাড়ানোর পেছনে চাহিদা-সরবরাহের চেয়ে বেশি কাজ করে কারসাজি, কাজ করে সিন্ডিকেট। সরকারকে এই কারসাজি ও সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে এবং সকল পণ্যের যৌক্তিক দাম নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে বাড়াতে হবে সরকারের হস্তক্ষেপ। অন্যথায় সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরবে না।