চিকিৎসা নৈরাজ্য

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:০৮ পিএম, ১৭ মে ২০২০

দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের কারণে। অবস্থা এমনই শোচনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সাধারণ সর্দি জ্বর বা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা ঘুরে ঘুরে হাসপাতালে ঠাঁই পাচ্ছেন না। আতঙ্কের কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাদের চেম্বারে বসেন না বললেই চলে। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে বাত উচ্চ রক্ত চাপ, ডায়াবেটিস, মানসিক রোগ, ক্যান্সার, কিডনি, ডায়রিয়া, বসন্ত, যক্ষ্মা, টাইফয়েড, হাম, পোলিও, ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্তরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা পাচ্ছেন না। সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। হাসপাতালে নিয়ে করোনা সংক্রমিত হওয়ার ভয়ে অনেক রোগী ঘরেই রোগ পুষছেন। সব মিলিয়ে একটি আতঙ্কজনক অবস্থার চিত্রই পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশে এ যাবত যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তার মধ্যে চিকিৎসক নার্সসহ স্বাস্থ্য কর্মিরাও রয়েছেন। বাংলাদেশে এ যাবত কয়েকজন চিকিৎসক এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের জন্য ব্যক্তিগত মান সম্মত সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা না থাকায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক সর্বগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। করোনা ভাইরাস চিকিৎসায় চিকিৎসকদের অনীহা থাকায় তার প্রতিক্রিয়া পড়েছে সাধারণ রোগীদের ওপর। এ আতঙ্কের অবসানে সবকিছুর আগে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য কর্মিদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের জোগান নিশ্চিত করতে হবে। দেশের স্বাস্থ্যখাত এ যাবত সে সক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। সঙ্গত কারণেই আমরা বলতে চাই, অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে হলে করোনা যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। পাশাপাশি সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে হবে এবং সব ধরনের রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। করোনা রোধের পাশাপাশি অন্যান্য রোগের চিকিৎসা সেবাও নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক এমনটি কাম্য।