বাল্য বিয়ে রোধ

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ১৭ মে ২০২০

নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের সাফল্য যখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসা অর্জন করছে, তখনও বাল্য বিয়ের হাত থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারিনি। বাংলাদেশে বাল্য বিয়ে আইনগত নিষিদ্ধ এবং এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দেশের আইন অনুযায়ী বিয়ের ন্যুনতম বয়স বরের ক্ষেত্রে ২২ এবং কনের ১৮। এর চেয়ে কম বয়সে বিয়ে হলে তা বাল্য বিয়ে বলে বিবেচিত হয় এবং আইনের দৃষ্টিতে অপরাধের শামিল। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ডভিশনের বাল্য বিয়ে বিশেষজ্ঞ এরিকা হল বলেন, যখন দুর্যোগ বা মহামারির মতো কোনও সংকট তৈরি হয় তখন বাল্য বিয়ের হার বেড়ে যায়। বাল্য বিয়ে বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া। তাছাড়া লকডাউনের কারণে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিয়ে রোধের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে আগামী দুই বছরে অন্তত ৪০ লাখ মেয়ে শিশু বাল্য বিয়ের ঝুঁকিতে পড়বে। এর পেছনে স্কুল বন্ধ থাকা, দারিদ্র বেড়ে যাওয়া সহ করোনা সম্পর্কিত নানা কারণ জড়িত বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, করোনা মহামারির কারণে আগামী এক দশকে আরও এক কোটি ৩০ লাখ শিশু বাল্য বিয়ের শিকার হবে। বিশ্ব ব্যাপী প্রতি বছর অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ মেয়ে শিশু ১৮ বছরের আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ প্রতি তিন সেকেন্ডে একটি মেয়ে শিশুর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞ এরিকা হল বলেন, মহামারির কারণে মেয়েদের কাছে প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছানোতেও বিঘœ ঘটছে। এতে অনেক তরুণীরাই অসময়ে গর্ভধারণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তার মতে, করোনা মহামারি শেষ হলেও অনেক মেয়ে শিশু স্কুলে আর না-ও ফিরতে পারে। এটা সত্যিই উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। আমরা চাই, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তর থেকে বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হোক। বেআইনি বাল্য বিয়ের সঙ্গে জড়িত সবার শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।