করোনা সংক্রমণ রোধে প্রয়োজন সচেতনতা

প্রকাশিত: মার্চ ২৩, ২০২১, ১১:৪৫ রাত
আপডেট: মার্চ ২৩, ২০২১, ১১:৪৫ রাত
আমাদেরকে ফলো করুন

দেশে করোনার সংক্রমণের এক বছর পেরিয়ে গেছে। সংক্রমণ শুরুর এক বছর পর, যখন করোনার সংক্রমণ কমার চিত্র উঠে আসছিল, তখন অনেকেই স্বস্তির শ্বাস ফেলেছেন। ইতোমধ্যে দেশে করোনা প্রতিষেধক ভ্যাকসিনও চলে এসেছে। সরকারের উদ্যোগে বিনামূল্যে চল্লিশ উর্ধ্ব মানুষের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে টিকা দেওয়ার কার্যক্রমও সুষ্ঠুভাবে চলছে। এ অবস্থায় সবাই যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে, তখনই আবার দেখা দিয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। ২০২০ সালের মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর সেই সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে, বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যাও। পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সেজন্য সরকার শুরু থেকে সচেতন হয়, সংক্রমণ কমাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। কয়েক মাসের সেই ছুটিতে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মধ্য দিয়ে দেশে সংক্রমণ বাড়লেও তা কখনই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারেনি। চলতি বছরের শুরু থেকে কমতে থাকে সংক্রমণ হার। অনেক ক্ষেত্রে শিথিলতা আসে। সে অবসরে সরকারের বারবার প্রচারণা সত্ত্বেও আমাদের অনেকের মাঝে বাড়তে থাকে অসচেতনতা। অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনীহা দেখাতে থাকেন। যত্রতত্র মানুষের উপস্থিতিতে দ্রুত পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই আবার করোনার সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে করোনা আবার তার স্বমূর্তি ধারণ করতে শুরু করেছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।

 করোনা বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত তথ্যেও প্রতিদিনই সংক্রমণ বাড়ার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশে গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরেই নতুন করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। এমনকি গত এক সপ্তাহে আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী জানা যায়, চলতি মাসের শেষ এক সপ্তাহে, গত ২০ মার্চ পর্যন্ত দেশে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৪৭০ জন। অথচ তার আগের সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছিল ৬ হাজার ৫১২ জন। অন্যদিকে শেষ এক সপ্তাহে করোনায় মারা গেছে ১৪১ জন। যেখানে আগের সপ্তাহে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭৬ জন। শতকরা হিসাবে শেষ সপ্তাহে সনাক্ত বেড়েছে প্রায় ৯১ শতাংশ ও মৃত্যু বেড়েছে ৮৬ শতাংশ। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষাও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শেষ সপ্তাহে করোনা সনাক্তের নমুনা পরীক্ষা করেছে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। যেখানে আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার জন। শতকরা হিসাবে শেষ সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা বেড়েছে ২০ শতাংশ এবং সুস্থ বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। চলতি সপ্তাহেই এ বছরে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। করোনা রোগে কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। এ রোগের প্রথম এবং একমাত্র দাওয়াই সচেতনতা। জনসমাগম এড়িয়ে চলা।

 স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। অথচ বর্তমান সময়ে এসে আমাদের মধ্যে এ বিষয়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যার ফলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগী। করোনা সংক্রমণ কমাতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে। যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে করোনায় রোগীর মৃত্যু কমাতে সংক্রমিত রোগীদের হাসপাতালমুখী করতে হবে। করোনায় রোগীর মৃত্যর একটি বড় কারণ দেরিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া। করোনা সংক্রমিত রোগীদের বেশিরভাগই হাসপাতালে ভর্তি হন শেষ সময়ে, যখন তাদের অবস্থা গুরুতর। যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকার করোনা রোগীদের জন্য শুরু থেকেই বিশেষায়িত ব্যবস্থা করেছে, এখন বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো ছাড়াও অন্যান্য হাসপাতালেও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসাব্যবস্থাও ব্যাপক উন্নত হয়েছে। এ অবস্থায় করোনাভাইরাসের দাপটে আবারও বিপর্যস্ত হবার আগেই আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে সময়মতো রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। এবং সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আমাদের সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। বিনাকারণে বাইরে ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় এর বিকল্প নেই। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে। 

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, দৈনিক করতোয়া এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়