শাল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলা

OnlineStaff OnlineStaff
প্রকাশিত: ১১:১৫ পিএম, ২২ মার্চ ২০২১

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত কটুক্তির জের ধরে বুধবার সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁওয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকটি মন্দির ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের নববি গ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের অনেকেই বার বার সাম্প্রদায়িক হামলাকে প্রশাসনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। তবে সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কেউ ছাড় পাবে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের আগে এ ধরনের হামলায় বিব্রত সরকার।  এই হামলা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমনি বলেন, নোয়াগাঁওয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। রাজধানীর সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ফেসবুকে স্ট্যাটাসের কথা বলা হয়েছে।

 এর সঙ্গে যে জড়িত তাকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপরও কেন এভাবে অস্ত্র শস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর, মন্দিরে কেন হামলা ও ভাঙচুর করা হলো। এ ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। আমরা স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল এর অন্যতম অঙ্গীকার ছিল, সাম্প্রদায়িকতার যবনিকাপাত। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের অর্ধশতক পরও আমরা দেখছি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর অপশক্তির কুঠারাঘাত থেমে নেই। এই বর্বরোচিত ঘৃণ্য কর্মকান্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হেফাজত সমর্থকদের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনার পর দুটি মামলা হয়েছে। মামলা দুটিতে দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতারও হয়েছে অনেকে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে জানান, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিকের দিকে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। আক্রান্ত লোকদের আমরা বাড়িতে নিয়ে আসছি। আর যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক থাকবো।

ক্ষতিগ্রস্ত ৪০টি পরিবারকে ৫ হাজার করে নগদ টাকা ও ৭ মেট্রিক টন চাল প্রদান করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, অতীতের এ রকম সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামার অভিযোগে মামলার আজতক সুরাহা হয়নি। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের রামুতে ঐতিহ্যবাহী ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধ পল্লীতে এক যোগে অগ্নিসংযোগ ও হামলা চালিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। পরের দিন উখিয়া ও টেকনাফেও আরো সাতটি বৌদ্ধ বিহার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। রামুতে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার ১৮টি মামলার এ যাবত কোনো কুলকিনারা হয়নি। নিষ্পত্তি তো দূরের কথা, একটি ছাড়া অন্য মামলাগুলোর সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হয়নি। মামলাগুলোর আসামির সংখ্যা ১৫ হাজার। এর মধ্যে অভিযোগ পত্রে ৯৮৪ জনকে আসামি করা হয়। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসির নগরে হিন্দুদের মন্দির এবং বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা এখনো বিচার পায়নি। সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ কারও কল্যাণ করে না। এ বিপদ কত ভয়ঙ্কর হতে পারে, সে তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। সঙ্গত কারণেই প্রত্যাশা প্রতিটি দেশেই সংখ্যা লঘুদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ সৃষ্টিতে তৎপরতা বাড়–ক। এ জন্য রাজনীতিক, সামাজিক শক্তি সহ সব মহলকে বাড়িয়ে দিতে হবে সহযোগিতার হাত। সাম্প্রদায়িক শক্তি দমনে বাংলাদেশের সাফল্য অটুট রাখবে বলে আমরা আশা করি।