সঞ্চয় সংকুচিত হচ্ছে মধ্যবিত্তে

মানুষ তার আয়ের পুরোটাই ভোগ করে না। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আয়ের একটা অংশ সঞ্চয় করে। মানুষের এই সঞ্চয় অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসতে সরকারি-বেসরকারি তেমন উদ্যোগ নেই। উল্টো সঞ্চয়-বিনিয়োগের বৈধ জায়গাগুলোতে কখনো সুদের হার হ্রাস করে, কখনো কর বসিয়ে বা করহার বৃদ্ধি করে মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের নিরাপদ উৎস সঞ্চয়পত্র কেনার বিষয়ে কড়াকড়িসহ উৎসে কর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে সঞ্চয়ের সবচেয়ে বড় এই খাতে বিক্রিও কমে গেছে আশংকাজনকভাবে। চলতি অর্থ বছরের প্রথম মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি হয়েছে মাত্র দুই হাজার ১৬০ কোটি টাকা। এটি গত অর্থ বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৩৩ শতাংশ কম। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে পাঁচ হাজার ৩৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মানুষের ভোগ ব্যয়ও বেড়ে গেছে। এর ফলে মোট দেশজ আয়ে (জিডিপি) জাতীয় সঞ্চয়ের হার কাঙ্খিত মাত্রায় বাড়ছে না। কয়েক বছর ধরে তা ২৮ থেকে ৩০ শতাংশের ঘরে আটকে আছে। জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তর সূত্র বলছে, এখন থেকে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে জাতীয় পরিচয় পত্রের সঙ্গে ই টিন সনদ জমা দিতে হবে। টাকার পরিমাণ এক লাখের বেশি হলে অবশ্যই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কর বৃদ্ধি ও সুদ হ্রাসসহ নানা কারণে সঞ্চয়ে উৎসাহ হারাচ্ছে মানুষ। এ ছাড়া মূল্য স্ফীতির কারণেও মানুষের সঞ্চয় প্রবণতা কমছে। জাতীয় সঞ্চয় কাঙ্খিত হারে বৃদ্ধি না পাওয়ায় জিডিপিতে বেসরকারি বিনিয়োগের হারও অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। এতে নতুন শিল্প-কারখানা যেমন গড়ে উঠছে না, তেমনি কর্মসংস্থানও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই উচ্চ জিডিপি অর্জনে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়াতে আরো নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।