শিক্ষা পরিস্থিতি

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১০:০৬ এএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্ব ভীতিপ্রদ বাস্তবতার মুখোমুখি। এর প্রভাবে যেমন মানুষের জীবন যাপনের স্বাভাবিকতা বিঘিœত হয়েছে, তেমনি বিপর্যস্ত হয়েছে প্রত্যেকটি খাত। শিক্ষায়ও পড়েছে এর ব্যাপক প্রভাব। বাতিল হয়েছে প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। অটো প্রমোশন দেওয়া, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করোনা মহামারির কারণে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ছিল। এবার সেই ছুটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ল (কওমি ছাড়া)। তবে ছুটি চলাকালে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চলবে। ১১ মাসের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে। ইতিমধ্যে গত বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।

 গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছুটি চলাকালীন শিক্ষার্থীরা নিজেদের ও অন্যদের করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য নিজ নিজ বাসস্থানে অবস্থান করবে। শিক্ষার্থীদের বাসস্থানে অবস্থানের বিষয়টি অভিভাবকবৃন্দ নিশ্চিত করবেন এবং স্থানীয় প্রশাসন তা নিবিড়ভাবে পরিবীক্ষণ করবে। গত ২৪ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি সংসদে বলেছিলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর প্রাথমিকভাবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস হবে। বাকিরা সপ্তাহে একদিন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস করবে। পত্র-পত্রিকার খবরে প্রকাশ, কোনো কোনো দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। কারণ, খোলার পর এমন কিছু হলে তার দায় সরকারের ওপর পড়বে। এখন মন্ত্রণালয় চাইছে খোলার আগে শিক্ষকদের করোনাভাইরাসের টিকা দিতে। করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেই সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে চায়। আশার কথা, আমাদের দেশে করোনার প্রকোপ অনেকটা কম। সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে আমাদের দেশে করোনা মহামারী আকার ধারণ করতে পারেনি। শিক্ষার উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ জারি থাকবে- এটাই কাম্য।