ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:২১ পিএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১

চট্টগ্রাম থেকে চতুর্থ দফায় দুই হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরে গেছেন। সোমবার দুপুরের দিকে সাড়ে দশটায় তাদের নিয়ে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে জাহাজগুলো রওনা দেয়। এ পর্যন্ত পাঁচ দফায় সাড়ে ৯ হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরে গেছেন। ১৩ হাজার একর আয়তনের ভাসানচরে ১২০টি অত্যাধুনিক পরিবেশ বান্ধব গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করেছে নৌ বাহিনী। রোহিঙ্গাদের জন্য বাসস্থান ছাড়াও বেসামরিক প্রশাসনের প্রশাসনিক ও আবাসিক ভবন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভবন, ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসালয়, শিশুদের খেলার মাঠ ও বিনোদন স্পষ্ট গড়ে তোলা হয়েছে। মিয়ানমারে হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০০৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় আট লাখ রোহিঙ্গা। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয় শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১১ লাখ। সেখান থেকে ৯২ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসান চরে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সরকার। ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রথম দফায় স্থানান্তর করা হয় ১ হাজার ৬৪২ জনকে। ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় ১ হাজার ৮০৪ জনকে স্থানান্তর করা হয়। আর চলতি বছরের ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় স্থানান্তর করা হয় ৩ হাজার ২৪২ জনকে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করে আসছি রোহিঙ্গা সংকটের যৌক্তিক সমাধানের ব্যাপারে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে কেবল আশার বাণী শোনা হচ্ছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করা হবে এ ধরনের আশ্বাস বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা আগের মুখ দেখছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়। প্রায় ১৭ কোটির অধিক বাংলাদেশি নাগরিকের জনবহুল বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের চাপ আর কতদিন সইতে হবে। মানবিক কারণে তার আশ্রয় দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, তাদের আজীবন রাখতে হবে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এগিয়ে আসুক। জাতিসংঘ সহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও পক্ষগুলো মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক, যাতে করে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। বাংলাদেশ চায় সুষ্ঠু সুন্দর ব্যবস্থা-পনায় নাগরিক মর্যাদায় তাদের পূর্ণ অধিকার দিয়ে ফেরত নেয়া হোক।