অভিজিৎ হত্যার রায়

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:১৪ পিএম, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে মামলার এক আসামিকে। হত্যাকান্ডের ছয় বছরের মাথায় এ রায় ঘোষণা করা হলো। গত মঙ্গলবার ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ মজিবুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় অভিযুক্ত ছয় আসামির মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস, আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহকে মৃত্যুদন্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তারা সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। এদের মধ্যে আসামি জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেন পলাতক। বাকি আসামিরা কারাগারে আছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে বই মেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী অভিজিৎ রায়কে। পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, স্বাধীনভাবে লেখালেখি ও মতপ্রকাশের জন্য অভিজিৎ রায়কে নিজের জীবন দিয়ে মূল্য দিতে হয়েছে। এই হত্যার উদ্দেশ্য হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বন্ধ এবং নিরুৎসাহিত করা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ স্বাধীনভাবে লেখালেখি ও মতপ্রকাশ না করতে পারে। প্রসঙ্গত বলা দরকার, এমন নৃশংস হত্যাকান্ড কতটা ভয়ানক তা এড়ানোর সুযোগ নেই। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সবাই মিলেমিশে বসবাসের সংস্কৃতি বিদ্যমান। ফলে যে কোনো ধরনের উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ সমূলে উৎপাটন করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ জারি রাখতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে অখন্ডতা, সংহতি ও জননিরাপত্তা যেন বিঘিœত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আমরা চাই, পলাতক দুই আসামিকে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং এ রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।