সুন্দরবন নিয়ে অবহেলা নয়

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৪:৩০ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ও প্রাণ বৈচিত্র্য বাংলাদেশের অমূল্য জৈব সম্পদ। সুন্দরবন আমাদের জাতীয় গর্ব। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে এটা দক্ষিণাঞ্চলের পরীক্ষিত রক্ষাকবচ। অথচ পৃথিবীর একক বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের বিপদের যেন শেষ নেই। স্বল্প মেয়াদি অনেক ধরনের ক্ষতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে পুরো দেশকে রক্ষা করছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। দেশের সংরক্ষিত বনভূমির ৫১ শতাংশ অর্থাৎ ছয় হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার সুন্দরবন। সংরক্ষিত এই বনের তিনটি এলাকাকে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেসকো ৭৯৮তম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করে, যা সমগ্র সুন্দবনের ৩০ শতাংশ এলাকা। জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবও মানুষের সৃষ্ট নানা কারণে সুন্দরবনে গাছপালা ও প্রাণিকূল হুমকির মুখে।

 অজ্ঞতা ও অবহেলা এবং সুন্দরবনের ভেতরের নদীগুলোর লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া সহ পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে অনেক গাছপালা ও প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। সুন্দরবনের চারপাশে ১০ কিলোমিটার এলাকাকে সরকার প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করলেও সেই এলাকার মধ্যে গড়ে উঠছে শিল্প প্রতিষ্ঠান। গত ৮-১০ বছরে গড়ে উঠেছে অর্ধ শতাধিক ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট ফ্যাক্টরি, এলপি গ্যাস প্লান্ট, অয়েল রিফাইনারি, বিটুমিন, সি ফুড প্রসেসিং ফ্যাক্টরি প্রভৃতি। বনের খুব কাছেই বিশালাকৃতির খাদ্য গুদাম নির্মাণ করেছে খাদ্য বিভাগ। বেশ কয়েকটি শিল্প কারখানার অপরিশোধিত তরল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পশুর নদে, যা চলে যাচ্ছে বনের মধ্যে নদী ও মাটিতে। যে কোনো মূল্যে সুন্দরবনকে বাঁচাতেই হবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বন্য প্রাণী, মাছ, সুন্দরবনের গাছপালা সবই বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। স্বল্প মেয়াদি অনেক ধরনের ক্ষতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সুন্দরবন মানে নিছক কিছু গাছপালা আর পশু পাখি নয়। তাই সুন্দরবন ধ্বংস মানে বছরজুড়ে লাখ লাখ মানুষের জীবিকার বিনাশ, প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগে লাখ লাখ মানুষকেও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া।