দখলের কবলে নদ-নদী

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:৩৬ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২১

নদীর দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ নামের ভূ-খন্ড প্রকৃত অর্থে নদ-নদীরই দান। বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অস্তিত্বের অনুষঙ্গ হলেও নদী রক্ষায় আমাদের ব্যর্থতা প্রায় ক্ষমাহীন। এ অকাম্য অবস্থার অবসানে তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে আইনগত অভিভাবক ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট-এটা গত বছরের প্রথম দিকের কথা। ঐতিহাসিক এ রায়ে নদী দখলকারীদের নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণাও করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছিল, নদী দখলের সঙ্গে জড়িতরা ঋণও পাবে না। এ রায়কে সম্মান দেখিয়ে দখল বাণিজ্য বন্ধ হয়েছে কিনা সেটা নদী রক্ষা কমিশন বলতে পারবে। কিন্তু পত্র-পত্রিকায় খবর দেখে মনে হয় না নদী দখল বন্ধ রয়েছে। করোনার সংক্রমণ এবং লজিস্টিক ও অর্থ সংকটের কারণে নদী দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যকর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগেই পেশি শক্তি ও প্রভাব বিস্তার করে নদীর মধ্যে বা ফোর শোরে বড় বড় অনেক অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু করা হয়েছে। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও এইসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা যায়নি। এমনকি সরকারি স্থাপনাও সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সারা দেশে উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যেও নদী দখলদারদের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২০ সালে দেশে নদী দখলদারদের সংখ্যা চিহ্নিত করা হয়েছে ৬৩ হাজার ২৪৯ জন। ২০১৯ সালে দখলদারদের ওই সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার ৩৯০ জন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পানির ভূমিকা অনেক। জীবজন্তু ও পশু পাখি সবার জন্য পানি প্রয়োজন। গাছপালার জন্যও পানি চাই। কৃষি কাজের জন্য পানি প্রয়োজন। বাংলাদেশে প্রায় ৭০০ নদী রয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, দখল ও পলিতে নদীগুলোর ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদী দখল করে নানা ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। একদিকে নদী পথকে সংকীর্ণ করে তোলা, অন্যদিকে এসব অপকান্ড করে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তারা দেশের ভালো চায় এমনটি বলা যাবে না। নদ-নদীগুলো দখলমুক্ত করা হোক। পরিবেশ ও মানুষ বাঁচাতে এর কোন বিকল্প নেই। দখল এখন নিত্য-নৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এটা রোধ করতে না পারলে আমাদের রক্ষা নেই।