করোনার ভ্যাকসিনে স্বচ্ছতা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১০:৫৬ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

করোনাভাইরাস মানবজাতির জন্য সাক্ষাত বিপদ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে এবং ইতিমধ্যে বিশ্বে কয়েক লাখ মানুষ প্রাণও হারিয়েছে। আনুমানিক হিসাবে পৃথিবীর কয়েক কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এ ঘাতক ভাইরাসে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষের টিকে থাকা ও জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন। দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনার টিকা প্রদানের বিষয়ে বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, বিজ্ঞানসম্মত যুক্তির ভিত্তিতে স্বচ্ছতা বজায় রেখে মানুষকে টিকা দিতে হবে। তবে সব মানুষ টিকা নিতে চায় কি না, তা জেনে নেওয়া ভালো। জাতীয়ভাবে টিকা দেওয়ার আগে কয়েক জায়গায় টিকা দেওয়ার অনুশীলন করতে হবে। পাশাপাশি সমাজে যেন বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি না হয়, সমাজ যেন বিভক্তির দিকে না যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। গত শনিবার রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ডাঃ সায়েদুর রহমান বলেন, দেশে কে টিকা পেল আর পেল না, টিকা বিতরণের সময় যেন সমাজে বিভেদ সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিএমএ’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ ই মাহবুব বলেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিজে স্বচ্ছ নয়। তাদের অব্যবস্থাপনার জন্য জাতি আগেও ভুগেছে, আগামীতেও ভুগবে। দেশে প্রথম টিকা কে পাবে, সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ঠিক করতে হবে। টিকা বিতরণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইড লাইন অনুসারে টিকা বিতরণের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আমরা মনে করি, যখন এমন বিষয় সামনে আসছে, মহামারি করোনার লাগামটি টানতে টিকা আশাব্যঞ্জক, তখন বিশ্বে নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি আমলে নিয়ে টিকার সুষ্ঠু বন্টন নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, টিকা যেহেতু চলে এসেছে এবং বিভিন্ন দেশ টিকা প্রদান শুরু করেছে, ফলে টিকার সুষ্ঠু বন্টন সংক্রান্ত সামগ্রিক বিষয় নিশ্চিত হোক এমনটি কাম্য। টিকার বিষয়টি আমলে নেওয়ার পাশাপাশি -স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, অকারণে ঘোরাফেরা না করা, মাস্ক পরাসহ প্রয়োজনীয় সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।