অভিবাসী কর্মিদের ফেরা অনিশ্চিত

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ১০:৫৫ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২১

করোনা মহামারিতে বিভিন্ন দেশে অনেক ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্প কারখানা ও অবকাঠামো নির্মাণ বন্ধ থাকায় বড় ধাক্কা লেগেছে বৈদেশিক কর্মস্থানে ও অভিবাসন খাতে। বিপাকে পড়েছে প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশি। এদের কেউ চাকরি হারিয়েছেন, কেউ ছুটিতে এসে আটকা পড়েছেন। আবার কেউ  প্রস্তুতি নিয়েও যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ এবং এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে জনশক্তিকে জনসম্পদে রূপান্তর করার কোনো বিকল্প নেই। আর এ প্রসঙ্গে এটাও বলা দরকার, দেশের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে রাখছে বড় রকমের ভূমিকা। ফলে প্রবাসীদের সংকট আমলে নিয়ে যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। পত্র-পত্রিকার খবরে প্রকাশ, আট মাসে দেশে ফিরে আসা অভিবাসী কর্মির সংখ্যা তিন লাখ ২৬ হাজার ৭৫৮ জন। এখন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে অনেক বিদেশে যেতে পারছেন না। অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ। দেশে ফিরে আটকা পড়া প্রবাসী শ্রমিকরা এ রকম ধোঁয়াশায় দিন কাটাচ্ছেন না। ছুটিতে নিজ দেশে এসে করোনার কারণে কয়েক লক্ষাধিক শ্রমিক বিদেশে নিজ নিজ কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। দেশে ফিরে আসা প্রবাসীরাই শুধু সংকটে নন, বিদেশে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে টাকা জমা দিয়েছিলেন এমন কয়েক লাখ কর্মিও এখন অন্ধকারে। সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সিঙ্গাপুর সহ বেশ কয়েকটি দেশে যাওয়ার জন্য এজেন্সির কাছে লাখ লাখ টাকা জমা দেওয়ার পরও অনেকেই করোনা মহামারির কারণে বিদেশ যেতে পারছেন না। ভিসা হওয়ার পরও হাজার হাজার কর্মি বিদেশ যেতে পারেননি। যেখানে প্রতি বছর সাত থেকে ১০ লাখ কর্মি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতেন, সেখানে করোনার কারণে তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম কর্মি বিভিন্ন দেশে যেতে পেরেছেন। করোনা মহামারির কারণে বিশ্ব জুড়ে আবার বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন বিভিন্ন দেশ। বিমান চলাচল বন্ধ করায় অনেকের সৌদি আরব ও ওমান যাওয়া আটকে গেছে। আমরা মনে করি, আমাদের বাংলাদেশের দূতাবাসগুলো এ ব্যাপারে আরো সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।