ছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:৫৪ এএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২১

বাংলাদেশে ধর্ষণ কার্যত এক অপ্রতিরোধ্য অপরাধ হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। অত্যন্ত কঠোর আইন, নারী অধিকার সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ সংবাদ মাধ্যমে লেখালেখি- কোনো কিছুতেই ধর্ষণকারীদের দৌরাত্ম্য কমছে না। দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সী নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। রাজধানীর কলাবাগানে স্কুল পড়–য়া এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যু হয়েছে যে বন্ধুর বাসায়, তাকে আসামি করে মামলা হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। কৌশলে মেয়েটিকে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এর চেয়ে নির্মম ঘটনা আর কী হতে পারে।

 ভাবতে অবাক লাগে স্বাধীনতার ৫০ বছর পর এসেও স্কুল ছাত্রীদের ধর্ষিত হতে হচ্ছে। এ ধরনের ব্যাধি ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সর্বত্র। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এ ব্যাধি থেকে সহজে নিস্তার নেই। বিচারহীনতার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। পরিবার, সমাজে অন্যের ‘অনুমতি বা সম্মতি’ নেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে, পৌরষত্বের সনাতনী ধারণায় পরিবর্তন আনতে হবে, ধর্ষণকে প্রেম-বন্ধুত্বের নামে একে ‘বৈধতা’ দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না, চোখের সামনে ধর্ষণ হচ্ছে অথচ নির্বিকার, নিস্ক্রিয় থাকার কাপুরুষতা পরিহার করতে হবে। সামাজিক বা আইনগত হয়রানি, অসম্মানের ভয়ে ধর্ষণের ঘটনা লুকিয়ে রাখা যাবে না। যৌন হয়রানির শিকার নারীর অবস্থা কতটা ভয়ানক, শোচনীয় এবং প্রকট তা চারদিকে চোখ রাখলেই বোঝা যায়।

আইনের ফাঁক ফোকর আর দীর্ঘসূত্রতার কারণে এসব অপরাধের বিচার হয় না অথবা অনেক সময় অপরাধী আইনের ফাঁকফোকর গলে বের হয়ে আবারও একই রকমের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। দেশজুড়ে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন এবং ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করার দাবির মধ্যে সরকার আইন সংশোধন করেছে। সমাজে এ বার্তা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অপরাধ করলে শাস্তি পেতেই হবে সে জন্য দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন, ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা জরুরি। দেশের সামগ্রিক যে অবক্ষয়ের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে তা থেকে পরিত্রাণের রাস্তা বের করতে হবে সরকারকেই। এটা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতের জন্য ভয়ঙ্কর বিপদ ডেকে আনবে।