বিকাশমান ওষুধ শিল্প

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:৪৮ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে শত বিতর্ক থাকলেও আমাদের ওষুধ শিল্পের সুনাম বিশ্ব জুড়ে। গুণগতমান ও কার্যকারিতার কারণে বাংলাদেশের ওষুধ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব বাজারে। দেশের ৯৮ শতাংশ চাহিদা মিটিয়ে ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে ১৬০টি দেশে। শুধু তাই নয়, বিশ্বের ৪৮ দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশের ওষুধ। দেশের ২৫৭টি কোম্পানির কারখানায় বছরে ২৪ হাজার ব্র্যান্ডের ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে। বছরে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধ ও কাঁচামাল উৎপাদিত হচ্ছে এসব কারখানায়। এ শিল্পের প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। এসব তথ্য দিয়ে ওষুধ শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, তা এ অগ্রযাত্রা আরও বেগবান করতে চান। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশীয় ৪৬ কোম্পানির ৩০০ ধরনের ওষুধপণ্য বিশ্ব বাজারে রপ্তানি হয়। শুধু ওষুধ রপ্তানিতে বিশ্ব বাজার থেকে বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। এলডিসি হিসেবে ওষুধ শিল্পে মেধাস্বত্ব ছাড় ১৭ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প খাতে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত মেধাস্বত্ব ছাড় পাচ্ছে।

 এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওষুধ রপ্তানির আকার বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্ব বাজারে এখন ওষুধের বার্ষিক ব্যয় ৯৫ হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার। ইপিবির তথ্য মতে, সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ওষুধ রপ্তানি হয়েছে  ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের। আগের বছরের চেয়ে ওষুধ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। দেশের ওষুধ শিল্প এখন কাঁচামালের জন্য ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর নির্ভরশীল। দেশে কাঁচামাল তৈরি হলে তা বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করবে। ওষুধের উৎপাদন খরচও হ্রাস পাবে। এর ফলে বিদেশে ওষুধ রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। ওষুধের মতো মানসম্মত পণ্য রপ্তানি বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি বাড়াতে সহায়তা করবে। ওষুধ শিল্পের সামনে যে সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে তা কাজে লাগাতে ওষুধের মানের ব্যাপারে হতে হবে আপসহীন। এ ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসনের কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। ওষুধ শিল্পের পরিসর বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও রাখবে ইতিবাচক প্রভাব।