সীমান্তে হত্যা

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:৪৭ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২১

সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। প্রসঙ্গত, আমরা বলতে চাই, বহু দেনদরবার, আলাপ-আলোচনা, সমঝোতা এবং প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও যখন সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না, তখন এই পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি বলেই প্রতীয়মান হয়। পত্র-পত্রিকার খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রিপোর্ট অনুসারে গত ১০ বছরে সীমান্তে দুই হাজার ৬৩২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। বস্তুত বাংলাদেশ ভারত সরকার যদিও পরস্পরকে বন্ধু রাষ্ট্র বিবেচনা করে, সেই আবহ দুই দেশের বিস্তীর্ণ সীমান্ত রেখা বরাবর হোঁচট খেতে দেখা গেছে বারবার।

 একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবেশি রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এমন হত্যাকান্ড চালাবে কেন? অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম নিশ্চয়ই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তার জন্য প্রচলিত আইন ও দন্ড রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত নিয়ে সব বৈঠকেই বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধ করা হবে। চোরাচালান বা এ ধরনের অপরাধীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে রাবার বুলেট ব্যবহার করা হবে। কিন্তু কোথায় সেসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ? বরং আর কত দুঃখ প্রকাশ, আর কত প্রতিশ্রুতির কথা আমাদের শুনতে হবে? নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের হত্যার প্রতিটি ঘটনা আমাদের হৃদয়কে শোকাভিভূত করে। আমরা মনে করি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে সীমান্তে হত্যকান্ড বন্ধ কঠিন নয়। তাদের মনে রাখা উচিত সীমান্ত রক্তাক্ত রেখে আর যাই হোক, সুসম্পর্ক টেকসই হবে না। আমরা মনে করি, দুই দেশের বন্ধুত্বের স্বার্থে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীদের (বিএসএফ’র) বাড়াবাড়ি বন্ধে দিল্লিকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিশ্রুতি নয়, এটিকে বাস্তবে পরিণত করতেও যতœবান হতে হবে।