অপুষ্টি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৮:১৩ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২১

দারিদ্র্যের হার কমে এলেও পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশে এখনও বড় সমস্যা। অনেক সচ্ছল পরিবারেও অপুষ্ট শিশু বেড়ে উঠছে। দেশ-বিদেশের গবেষণায় দেখা গেছে, বিগত ১০ বছরে দেশে অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ লাখ। অন্তত আড়াই কোটি মানুষ প্রতিদিনের খাদ্য চাহিদা মতো পুষ্টি পাচ্ছে না। ৬০ শতাংশ নারী প্রয়োজনের তুলনায় কম পুষ্টিমানের খাবার খায়। ৪০ শতাংশ শিশু পুষ্টির অভাবে খর্বকায় হয়ে জন্মাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পুষ্টি সমৃদ্ধ বা খাদ্য নিরাপত্তা রয়েছে এমন পরিবারগুলোতে ৫৫ ভাগ ছেলে এবং ৪৭ ভাগ মেয়ে অপুষ্টিতে ভুগছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের পোভার্টি এন্ড শেয়ার্ড প্রোসপারিটি ২০১৮-এর এক প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

 এদিকে গত মঙ্গলবার রাজধানীতে শ্রমিকদের জন্য বিদ্যমান পুষ্টিসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ প্রকল্প বিষয়ক আলোচনা সভায় উল্লেখ করা হয় দেশে পোশাক শিল্পেই কর্মরতদের মধ্যে শতকরা ৪৩ জন নারী অপুষ্টিতে ভুগছেন। অপুষ্টির কারণে শ্রমিকদের কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা ২০ ভাগ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়ন এবং টেকসই লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তাদের নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বর্তমানে খাদ্যে আমাদের স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের কথা বলা হলেও একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে যে ন্যূনতম তিন হাজার কিলোক্যালরি শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য গ্রহণ দরকার তা সম্ভব হচ্ছে না। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) মতে, বাংলাদেশে পুষ্টিহীন মানুষের সংখ্যা এখন ২ কোটি ৬০ লাখ।

 অন্যদিকে সরকারের জাতীয় পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা (২০১৬-২০২৫)-এর চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে ১৮ শতাংশ গর্ভবতী মা অপুষ্টির শিকার এবং এর কারণে ২৩ শতাংশ শিশু জন্ম নিচ্ছে কম ওজন নিয়ে। আমরা বলতে চাই অপুষ্টির বিষয়টি বারবার আলোচনায় এসেছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী অপুষ্টিরোধে কঠিন নীতিমালা এক্ষেত্রে সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। দেশ থেকে পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে সরকারের স্বাস্থ্যখাতের সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতাই এখন জরুরি।