সড়কে প্রাণ ঝরছে সাত হাজার

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৭:৩৮ পিএম, ১১ জানুয়ারি ২০২১

সড়কে মর্মস্পর্শী দুর্ঘটনা ঘটছেই। দেশের কোথাও না কোথাও প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঝরে যাচ্ছে প্রাণ। সরকারের নানা উদ্যোগের পরও কমানো যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনার, সড়কে মৃত্যুর মিছিল কেবলই দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বড় দুর্ঘটনায় অনেক বেশি প্রাণহানি এক সঙ্গে ঘটলে যখন হৈ চৈ পড়ে যায়, কর্তৃপক্ষ তখন নড়ে চড়ে বসে। তারপর আবার সড়ক-মহাসড়কগুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ফিরে আসে। বিদায়ী ২০২০ সালে সড়ক, রেল ও নৌপথে পাঁচ হাজার ৩৯৭টি দুর্ঘটনায় সাত হাজার ৩১৭ জন নিহত এবং নয় হাজার ২১ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার ৮৯১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় হাজার ৬৮৬ জন নিহত এবং আট হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছে। একই সময় রেলপথে ৩২৩টি দুর্ঘটনায় ৩১৮ জন নিহত এবং ৭৯ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ১৮৩টি দুর্ঘটনায় ৩১৩ জন নিহত, ৩৪২ জন আহত ও ৩৭১ জন নিখোঁজ হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়ার মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘন্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবকদের বেপরোয়া মোটর সাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএর সক্ষমতার ঘাটতি, গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সড়কে শৃঙ্খলা-ফেরাতে সরকার তথা সংশ্লিষ্টরা এমন উদ্যোগ নিশ্চিত করবে যাতে ‘নিরাপদ সড়ক’ বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কম কথা বলা হয়নি। যে কোনো মূল্যে সড়ক নিরাপদ করতে হবে সংশ্লিষ্টদেরই। গাড়ি চালকদের বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তা থেকে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন অপসারণ করতে হবে। চালকদের দক্ষ বানাতে হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে সড়ক নিরাপদ করতে যথাযথ উদ্যোগ নিশ্চিত হোক-এমনটি কাম্য।