করোনাকালে নারী নির্যাতন

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:১৪ পিএম, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০

দেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা বেড়েই চলেছে কোনোরকম প্রতিকারহীনভাবে। আমরা কোনোভাবেই সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি না। এটা আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা। বিগত বছরগুলোতে নারীর প্রতি নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনা ঘটলেও ২০২০ সালে করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে এ ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস নারী নির্যাতনকে ‘উসকে’ দিয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় চলতি জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মোট ১১ মাসে পারিবারিক নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, যৌতুক ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২ হাজার ২৪৬ নারী। নারী নেত্রী ও মানবাধিকার কর্মিরা বলছেন, এ বছর নারীর ওপর নির্যাতন আগের যে কোনো বছরের তুলনায় আরও ভয়াবহ। বিশেষ করে এবার অস্বাভাবিক অনেক ধরনের ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ফলত বছরের শেষে এসে সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে আইন করে।

 এটা সত্য, সমাজের এক শ্রেণির বর্বর পাষন্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছে, অবলীলায় জীবন চলে যাচ্ছে। এমনকি নারী ও শিশুর জীবনও চলে যাচ্ছে। সমাজে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করার জন্য কঠোর আইন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের খবর যত বেশি পাওয়া যায়, এসব অপরাধের দায়ে অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তার চেয়ে অনেক কম। অপরাধ করে পার পাওয়া যায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে অপরাধীরা অপরাধ কর্মে লিপ্ত হয়। শুধু আইন কঠোর করে কোনো ফলই মিলবে না যদি না সেই আইনের দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়। তা ছাড়া নারী নির্যাতনের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে শুধু রাষ্ট্রকে নয়, গোটা সমাজকে। ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে ব্যক্তি, পরিবার, পাড়া-মহল্লাসহ গোটা সমাজকে সোচ্চার হতে হবে।