রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘ

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:০৩ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০

রোহিঙ্গা সংকটের জরুরি সমাধানের লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে বিপুল ভোটে চতুর্থবারের মতো প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি শীর্ষক প্রস্তাবটি গত ১৮ নভেম্বর গৃহীত হয় বলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের সূত্রে জানানো হয়েছে। এটা অস্বীকারের উপায় নেই ১০ লাখের বেশি বা¯ুÍচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয়দানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অব্যাহতভাবে এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজছে, যা নিহিত রয়েছে বা¯ুÍচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যার্পণের মধ্যে। এটা মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ অন্যান্য সহিংসতার শিকার নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমান ও সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বিপুল সংখ্যক জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও অকুন্ঠ সমর্থনেরই বহি:প্রকাশ।

 ঐতিহ্যগতভাবে রোহিঙ্গাদের প্রতি এ দেশের মানুষের সহানুভূতি রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত শরণার্থীর ভার বহনের ক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশগুলোর একটি। প্রতিবেশি দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে মানবিক কারণে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের ঢালাও প্রশংসা ছাড়া সংকটের সমাধানে বিশ্বসম্প্রদায় এখনো শক্তভাবে এগিয়ে আসেনি। জাতিসংঘ শুধু নয়, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী গত বছর মিয়ানমার সরকার নতুন যে মানচিত্র তৈরি করেছে সেখানে অনেক রোহিঙ্গা বসতির অস্তিত্ব দেখায়নি।

 মানচিত্র থেকে এসব গ্রামের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। বিগত ছয় মাস বিশ্ব সমাজ করোনা মহামারি সংকট নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মিয়ানমার রোহিঙ্গা সংকট, সমাধানের পথগুলোও বন্ধ করতে ব্যস্ত। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে সুপ্রতিবেশিসুলভ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে চাই। কিন্তু সেটা দুর্বলতা নয়। বিশ্ব সম্প্রদায়কে এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে এর সমাধান হতে হবে। মানবিকতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বছরের পর বছর ধরে ভুগবে তা কাম্য হওয়া উচিত নয়।