নারী শিশু নির্যাতন

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:৩০ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০২০

দেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর খুনের ঘটনা বেড়েই চলেছে কোনো রকম প্রতিকারহীনভাবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এ ধরনের অপরাধ বাড়ার মূল কারণ। গত বুধবার একটি পত্রিকার কয়েকটি শিরোনাম দেখলে অপরাধের ভয়াবহতা অনুধাবন করা যায়। ১৭ দিনের সেই শিশুর মরদেহ উদ্ধার পুকুর থেকে’ ‘খালে ডুবিয়ে শিশুর লাশের ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেন খুনি’, ‘স্ত্রীকে হত্যা করে লাশ লুকিয়ে রেখে ছেলেকে নিয়ে পালালো স্বামী’ ‘রায়গঞ্জে শিশু ধর্ষণ’- কি নির্মমতা,! কোথায় যাচ্ছি আমরা? আমরা কোনোভাবেই সমাজে নারী শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি না। এটা আমাদের জাতীয় ব্যর্থতা। আমরা এই ধরনের উদ্বেগজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। মনে রাখতে হবে সামাজিক অস্থিরতা ও বিচারহীনতার কারণেই যৌন সহিংসতা নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও হয়রানি বাড়ছে। অপরাধ করে নিষ্কৃতি পাওয়ার একটি সংস্কৃতি দেশে চালু রয়েছে। এটা সত্য, সমাজের এক শ্রেণির বর্বর পাষন্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনের বিপন্ন হয়ে পড়ছে, অবলীলায় জীবন চলে যাচ্ছে।

এমনকি নারী ও শিশুর জীবনও চলে যাচ্ছে। সমাজে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। ঠুনকো কারণে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। আপনজনের হাতেও শিশুর জীবন চলে যাচ্ছে। কেবল তাই নয়- আমাদের কোমলমতি শিশুরা অবলীলায় নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। অথচ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজ তথা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা মনে করি, এই ধরনের ঘৃণ্য ও বর্বর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে হবে যে কোনো মূল্যে। এ ছাড়া বলা দরকার, মনোবিজ্ঞানীরা এমনটিও বলেছেন যে, প্রায় প্রতিটি পরিবারেই  নানা সমস্যা থাকে। অনেক কারণ একত্রিত হয়ে পারিবারিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে হতাশা, পরকীয়া ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। আমরা মনে করি, সামগ্রিক এই পরিস্থিতি আমলে নিয়ে এই ধরনের ঘটনাকে রুখতে হবে। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হতে হবে। বাড়াতে হবে জনসচেতনতা।