দূষণের কবলে নদী

Staff Reporter Staff Reporter
প্রকাশিত: ০৯:২৯ পিএম, ২১ নভেম্বর ২০২০

তেরশ নদী ছিল এই দেশে, এখন তা এসে ঠেকেছে ২৩০-এ তাও বেশির ভাগ মৃত প্রায়। উজানে পড়শি দেশের বাঁধ ও স্লুইস গেট নির্মাণের ফলে পদ্মা, তিস্তাসহ প্রধান প্রধান নদ-নদী এখন বিস্তীর্ণ চরে পরিণত হয়। এর ওপর আবার নদী দখল হচ্ছে, নদী দূষণ হচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই। নদী দূষণ ও দখল পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। তা সত্ত্বেও এ দেশে এটা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও পরিবেশবাদীরা এ ব্যাপারে যতই সোচ্চার হোক না কেন কোনো কাজ হচ্ছে না। যারা পরিবেশ দূষণ করছে তারা কেবল প্রকৃতির শত্রুই নয় মানুষেরও শত্রু। কারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করছে তারা। নদী দূষণ ও দখল, বৃক্ষ কর্তন, পাহাড় কাটা, ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি করা এসব কোনো ব্যাপারেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা চোখে পড়ে না।

ফলে দেশের নদ-নদী দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে অবলীলায়। নদ-নদী টিকে থাকার সঙ্গে বলা যায়, বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক অস্তিত্বের সম্পর্ক জড়িত। কাজেই যে কোন মূল্যে নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। অধিকাংশ নদীর পানি আর বহমান নয়। বর্জ্যরে ভারে পানি স্থবির হয়ে আছে। পানিতে অক্সিজেন নেই। নদীর প্রাণীগুলো মরে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের বাসযোগ্য পরিবেশের স্বার্থে কাজটি অতীব জরুরি। মনে রাখতে হবে নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধই শুধু নয়, দখলদারদের কবল থেকে নদী রক্ষা করতে না পারলে আমাদের জন্য সমূহ বিপদ অপেক্ষা করছে। অবাক ব্যাপার যে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ঢাকার নদীগুলো দখলমুক্ত করার জন্য অভিযান চালানো হয়েছে, ভেঙে ফেলা হয়েছে অবৈধ স্থাপনাও। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। অবিলম্বে নদ-নদীগুলো দখল ও দূষণমুক্ত করা হোক। পরিবেশ ও মানুষ বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।